গাছে স্যালাইন ঝুলিয়ে চিকিৎসা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪১:২০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। মাত্র ২০ শয্যার ধারণক্ষমতার ওয়ার্ডটিতে শুক্রবার পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ৯০ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীর কারণে ওয়ার্ডে জায়গা দিতে না পেয়ে বারান্দা, প্রবেশপথ এমনকি গাছতলা ও ভ্যানে বসিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দুপুরে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের ভেতর ও বারান্দায় রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। জায়গা না পেয়ে হাসপাতাল ভবনের বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। জায়গা না পেয়ে কয়েকজন রোগীকে হাসপাতাল ভবনের বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। গাছের ডালে স্যালাইন ঝুলিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। অনেকে ভ্যান গাড়িতে বসে স্যালাইন লাগিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন নতুন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিরে গাছ তলায় ও ভ্যান গাড়িতে স্যালাইন দিতে হচ্ছে রোগীকে। এতে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তৈরি হয়েছে চাপ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগ বেশি।
সংগলশী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাকারিয়া ইসলাম বলেন, ‘১২ মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ভেতরে জায়গা নেই। তাই বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’
সদরের কচুকাটা এলাকা থেকে ৮ মাস বয়সী শিশু লামিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মল্লিনা আক্তার বলেন, ‘বাচ্চা অসুস্থ হয়েছে। এখন বাহিরে গাছের ডালে স্যালাইন ঝুলিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’
চওড়া বড়গাছা এলাকার রোজিনা বেগম জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে স্বামীর ভ্যানের ওপর বসে আমার বাচ্চাটিকে স্যালাইন লাগিয়েছে। হাসপাতালে এসে ভ্যান গাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছি এটা দুঃখজনক।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জান্নাতুন মাওয়া বলেন, ‘আমাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২০ জন। প্রতিদিন ২০-৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাই উপায় না পেয়ে গাছের ডালে স্যালাইন দিতে হচ্ছে।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, ‘হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্পাতালে মাত্র ২০ জন। এখন প্রায় পাঁচগুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে।’





