সিলেটে সুধীজনের সঙ্গে শিল্পী ফখরুজ্জামানের রাতের আড্ডা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউকে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী মুহাম্মদ ফখরুজ্জামানকে নিয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোমুগ্ধকর এক রাতের আড্ডা। এতে সিলেটের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিয়ে তাঁর শিল্পকর্ম ও শিল্পভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
দেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের (কেমুসাস) কার্যালয়ে এ আড্ডার আয়োজন করা হয়। সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সেলিম আউয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে চিত্রশিল্পী মুহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও সাংবাদিক আবদুল কাদের তাপাদার।
তিনি বলেন, চিত্রশিল্পী ফখরুজ্জামান তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনকে কেন্দ্র করে প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও মধ্যপ্রাচ্যের চারুকলার মধ্যে একটি মেলবন্ধন গড়ে তুলেছেন। তাঁর শিল্পচর্চা এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর লন্ডনের গিল্ডহল ইউনিভার্সিটি থেকে চারুকলায় উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে পেশাদার চিত্রশিল্পী হিসেবে দেশে-বিদেশে কাজ করছেন।
আলোচনায় সিলেটের সুধীজনেরা ফখরুজ্জামানের শিল্পকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর বিমূর্ত চিত্রকর্মে প্রকৃতি, জীবন ও মানুষের অন্তর্লোকের সঙ্গে শিল্পের এক গভীর সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। রঙের বৈচিত্র্য, রেখার সাবলীলতা এবং কম্পোজিশনের সুষম বিন্যাস তাঁর চিত্রকর্মকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কখনো উজ্জ্বল রঙের তীব্রতা, আবার কখনো কোমল রঙের আবেশের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা, অনুভূতি ও সৌন্দর্যচেতনা।
তারা বলেন, ফখরুজ্জামানের শিল্পকর্ম শুধু দর্শকের চোখের সৌন্দর্যতৃষ্ণা মেটায় না; বরং মনে জাগিয়ে তোলে নানা প্রশ্ন, অনুভূতি ও কল্পনার জগৎ। তাঁর বিমূর্ত চিত্রে প্রত্যেক দর্শক নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি অনুযায়ী ভিন্ন অর্থ খুঁজে নিতে পারেন। ফলে তাঁর শিল্পকর্মে ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি সার্বজনীন আবেদনও রয়েছে।
নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের মাটিতে এমন আয়োজনে আবেগাপ্লুত চিত্রশিল্পী ফখরুজ্জামান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, পাশ্চাত্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিত্রশিল্পের বিকাশে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। বাংলাদেশেও সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি দেশে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান।
আড্ডায় আলোচনায় অংশ নেন সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সত্তরের দশকের কবি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ, কবি সালেহ আহমদ, কেমুসাসের সহসাধারণ সম্পাদক ও এডিশনাল পিপি কবি আবদুল মুকিত অপি, ভ্রমণকাহিনি লেখক মোয়াজ আফসার, কেমুসাসের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক ছড়াকার কামরুল আলম, কবি ও প্রভাষক মামুন সুলতান, চৈতন্য প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও পর্যটক রাজীব চৌধুরী, কেমুসাসের সহলাইব্রেরি সম্পাদক ও সিলেট লেখিকা সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবি ইশরাক জাহান জেলী, কবি নিশাত ফাতেমা মেহের ও আবু তালহা মাহী। বিজ্ঞপ্তি





