`সরকারি মোটরসাইকেল না চললেও জ্বালানি ও মেরামত বিল তুলে নেন কর্মকর্তা!’
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২৮:৫৩ অপরাহ্ন
বড়লেখা উপজেলা যুবউন্নয়ন অফিস

বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা যুবউন্নয়ন অফিসের সরকারি মোটরসাইকেল প্রায় দুই বছর ধরে অকেজো পড়ে থাকলেও জ্বালানি ও মেরামত বাবত বাজেট বরাদ্দের পুরো অর্থই উত্তোলন করে পকেটে ভরেন কর্মকর্তা এসএম জামালুদ্দিন। যদিও অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।
এছাড়া অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও কম্পিউটার সামগ্রিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জামাদি কেনাকাটায় নেই কোনো স্বচ্ছতা। প্রতিটি খাতের বাজেট বরাদ্দ ইচ্ছামাফিক উত্তোলন করে ব্যয়, যুব-যুবা প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানে নয়-ছয় ও ভুয়া বিল ভাউচারে টিএ, ডিএ তোলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উপজেলার যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে বড়লেখায় যোগদান করেন এসএম জামালুদ্দিন। সূত্র জানায়, ওই অফিসের দুইটি সরকারি মোটরসাইকেল একদিনও চালাননি তিনি কিংবা অফিসের কোনো স্টাফ। অকেজো অবস্থায় ফেলে রাখলেও জ্বালানি ক্রয় ও মেরামতের প্রদত্ত বরাদ্দের পুরো টাকাই তিনি বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচারে উত্তোলন করেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২০২৫ সালের ৫ মে মোটরসাইকেলের জ্বালানি ক্রয় বাবত উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উত্তোলন করেন ৮ হাজার টাকা, ২০ মে মেরামত বাবত উত্তোলন করেন ২ হাজার টাকা ও ৩ ডিসেম্বর জ্বালানি ক্রয় বাবত উত্তোলন করেন আরো ১৫ হাজার টাকা।
অপরদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর মোটরসাইকেল মেরামত বাবত উত্তোলন করেন ৬ হাজার টাকা, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোটরসাইকেলের জ্বালানি ক্রয়ে তোলেন ১৫ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ১৮ মে একই খাতে উত্তোলন করেন আরো ২ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে দুই অর্থবছরে উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা এমএম জামালুদ্দিন বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল ভাউচারে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে তোলে নিয়েছেন ৪৮ হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা।
অপরদিকে অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও কম্পিউটার সামগ্রি ক্রয়েও তিনি মানেননি সরকারি কোনো নিয়মনীতি, রাখেননি কোনো স্বচ্ছতা। ২৫ হাজার টাকার উপরে যেকোনো কেনাকাটায় ক্রয় কমিটি গঠন করে মালামাল ক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তিনি এসবের তোয়াক্কা না করেই সরকারি অর্থ ব্যয় করছেন। ২০২৫ সালের ১৭ জুন ক্রয় কমিটি ছাড়াই এককভাবে তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন একটি কম্পিউটার। অভিযোগ রয়েছে, এই কম্পিউটার ক্রয়ে অর্ধেক টাকাই তিনি পকেটস্থ করেছেন। বড় অঙ্কের আসবাবপত্র ও কম্পিউটার সামগ্রি ক্রয়েও মানেননি কোনো নিয়ম।
এ ব্যাপারে উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম জামালুদ্দিন জানান, তিনটি সরকারি মোটরসাইকেলের একটি ডিডি অফিসে ও অপর দুইটি এখানে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনমাস আগেও মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছেন। চোখের সমস্যায় ৩ মাস ধরে ব্যবহার করছেন না। তবে, সূত্র নিশ্চিত করেছে তিনি যোগদানের পর গত দুই বছরে একদিনও মোটরসাইকেল চলেনি, অকেজো (নষ্ট) পড়ে রয়েছে। অন্যান্য বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।






