গাজায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজনকে হত্যা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৯:২৩ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফ।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি বৃহস্পতিবার জানায়, গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু। অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে।
বৃহস্পতিবার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই দিন মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের পশ্চিমে ইয়ামুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।
ইসলামিক রিলিফ জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সীমারেখা ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই রেখাটি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষকে গাজার অবশিষ্ট মাত্র ৩৫ শতাংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুতদের শিবির ও জনবহুল এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে এখনো ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল এখনো গাজায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
ইসলামিক রিলিফের হিসাবে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসলামিক রিলিফ বলেছে, ‘শুধু নামেই যুদ্ধবিরতি’ থাকাকে আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।





