প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার বেড়ে ১৬.২৫%
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন
*বছরে বেড়েছে ৩.১০ শতাংশ পয়েন্ট * সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা*

জালালাবাদ রিপোর্ট : দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমলেও সেই অগ্রগতিতে ছেদ পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। শ্রেণিভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে চতুর্থ শ্রেণিতে। একই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিকে থাকার হারও কমেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি-২০২৪-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে এ হার ছিল ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা কমে ২০২২ সালে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমেছিল। তবে সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ :
শ্রেণিভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় শ্রেণিতে এ হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, প্রথম শ্রেণিতে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।
আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ২০২৩ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা পরের বছর বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। তৃতীয় শ্রেণিতে হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবে পঞ্চম শ্রেণিতে এ হার ২০২৩ সালের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতেও অবনতি :
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রেও পিছিয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। ২০২৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিকে থাকার হার ছিল ৮৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ হার কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ পয়েন্ট।
এ ক্ষেত্রে ছাত্রদের অবনতি ছাত্রীদের তুলনায় বেশি। ২০২৩ সালে ছাত্রদের টিকে থাকার হার ছিল ৮৫ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ কমেছে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, ছাত্রীদের টিকে থাকার হার ২০২৩ সালের ৮৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে কমে গত বছর ৮৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পতন ১ শতাংশ পয়েন্ট। ফলে ২০২৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা পর্যন্ত টিকে থাকার হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল।
অগ্রগতির পর ফের বাড়ল ঝরে পড়া :
ব্যানবেইসের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বলছে, ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ২৬ দশমিক ২ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধীরে ধীরে কমেছে। ২০১৩ সালে হার ছিল ২১ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৪ সালে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
২০১৭ সালে এ হার কমে ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপরও নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। ২০২১ সালে ঝরে পড়ার হার নেমে আসে ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশে। ২০২২ ও ২০২৩ সালেও তা কমেছে। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে সেই ধারার বিপরীতে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আবারও সামনে এসেছে।





