আউশকান্দি সিএনজি পাম্পে গ্যাস নিতে মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘসারি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ৬:২২:২৩ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সিএনজি পাম্পে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাম্পে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শত শত সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাম্পটি স্থাপনের পর থেকে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা যায়, আউশকান্দি সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেওয়ার জন্য শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলা এবং হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চালকরা গ্যাস নিতে এখানে আসেন। পাম্পের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অপেক্ষমাণ গাড়িগুলো মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেয়।
মহাসড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে সিএনজি চালক মুহিবুর রহমান বলেন, পাম্পের ভেতরে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বেশি গাড়ি রাখার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ থেকে সিএনজি নিয়ে আসা চালক বদরুল বলেন, আউশকান্দি সিএনজি পাম্প কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল মহাসড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা কিনে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে একই স্থানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার সময় দূরপাল্লার একটি বাসের ধাক্কায় তাঁর সিএনজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
বাহুবল উপজেলার পুটিজুরি বাজার থেকে আসা সিএনজি চালক মো. কামরুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টার দিকে তিনি গ্যাস নিতে পাম্পে আসেন। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সামনের গাড়িগুলো গ্যাস নিতে না পারায় তাঁকে মহাসড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কের ওপর বা পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে পাম্প কর্তৃপক্ষের গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা, মহাসড়কে যানবাহনের অবৈধ অবস্থান বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক ও প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।






