দেশের অনেকেই এখন রিজার্ভ সচেতন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১৯:১৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের বেশীর ভাগ জনগণের দেশের রিজার্ভ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ বা মাথা ব্যথা ছিলো না অতীতে। শুধু শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষ দিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে রিজার্ভের পতন এবং রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর এদেশের সচেতন মহল এমনকি অনেক সাধারণ মানুষও রিজার্ভ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইএমএফের ঋণ সম্পর্কেও। এর পাশাপাশি হাসিনার আমলের শেষ দিকে অর্থাৎ ২০২২ সালে শ্রীলংকার অর্থনৈতিক অবস্থায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে দেশটির রিজার্ভ নেমে যায় ৫ কোটি ডলারেরও নীচে। শ্রীলংকা চলে যায় দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। এ সময় শ্রীলংকা আইএমএফের ঋণ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে। বাংলাদেশের স্বৈরশাসক হাসিনাও অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে চেষ্টা করে আইএমএফের ঋণলাভের মাধ্যমে। যা-ই হোক এসব ঘটনা সংশ্লিষ্ট দেশ দুটির জনগণের মাঝে রিজার্ভ নিয়ে আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধি করতে সহায়ক হয়। এক সময় শুধু দেশের অর্থনীতিবিদ ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাই দেশের রিজার্ভ নিয়ে কথাবার্তা বলতেন, এখন একজন মোটামুটি শিক্ষিত, পেশাজীবী বা দোকানীও রিজার্ভের খোঁজ খবর রাখেন। যা-ই হোক, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসিনার রেখে যাওয়া বিপর্যস্ত রিজার্ভকে চাঙ্গা অর্থাৎ পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলে মাত্র এক বছরে ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে এ সময় বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিলো মাত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বকেয়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, চলতি ব্যয় মেটানো ও বর্তমান সরকারের নেওয়া স্বল্পমেয়াদী ঋণ পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভ বেড়েছে। রিজার্ভ বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, দেশ থেকে টাকা পাচার বহুলাংশে রোধ ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও রফতানি আয় বৃদ্ধির কারণেও বৈদেশিক মুদ্রার আয় বেড়েছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেশী মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনামলের দেড় দশকে দেশ থেকে পাচার হয় ২৮ লাখ কোটি টাকা। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২০ হাজার ৪শ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান বাজার দরে এর পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই হিসাবে প্রতি বছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। দুর্নীতিবাজ হাসিনার পতনের পর এই পাচার যে বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের রাঘব বোয়াল, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীরা এই পরিমাণ অর্থ পাচার করে। এটা মোটামুটি বন্ধ হওয়ায় দ্রুত বেড়েছে রিজার্ভ। এর পাশাপাশি ডঃ ইউনুস সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ায় প্রবাসীরাও রেমিট্যান্স পাঠানো বৃদ্ধি করেন। সর্বোপরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন বেশ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী রিজার্ভ কয়েক বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে, এমন প্রত্যাশা অর্থনীতিবিদদের।





