ইতিহাস গড়ে সাফ ফুটসালের শিরোপা জিতল: বাংলাদেশ প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৬:১০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: জয় ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। রোববার মাঠেও তার প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। সাবিনা-কৃষ্ণা-লিপির নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ১৪-২ গোলে মালদ্বীপকে বিধ্বস্ত করেছে। হ্যাটট্রিক করেন সাবিনা ও লিপি।
এদিকে বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলের ঐতিহাসিক সাফল্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপা অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গৌরবের। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সাফল্য বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের অদম্য মনোবল, পরিশ্রম ও সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ।
প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। তিনি ভবিষ্যতেও নারী ক্রীড়াবিদদের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন।
এরআগে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে রোববার নিজেদের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে কোনো পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশের মেয়েরা। রেকর্ড ১৪-২ গোলে বিশাল ব্যবধানের জয়ে ঘরে আসে শিরোপা। তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিল মালদ্বীপ। শেষ গোলটিও করেছে তারা।
তৃতীয় মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। তিন মিনিট পর সাবিনা খাতুনের ফ্রি কিক মালদ্বীপের জাল কাঁপালে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এখান থেকেই বাংলাদেশের দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। এরপর সার্কেলে কৃষ্ণা রানী সরকার ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। তবে পোস্টের বাইরে শট নিয়ে হতাশ করেন সাবিনা। কিছুক্ষণ পর সার্কেলের বাইরে থেকে ফ্রি কিক থেকেই ব্যবধান বাড়ান বাংলাদেশের অধিনায়ক।
প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে চার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার পাস ধরে কৃষ্ণা দূরূহ কোণ থেকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। এরপর কৃষ্ণার পাস নিলুফা আক্তার নীলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাড়ান লিপি আক্তারকে। টোকায় ব্যবধান আরও বাড়ে। ১৯ মিনিটে সার্কেলের ভেতর থেকে লিপি আক্তার এবং এরপরই রওশন জাহান গোল পান। ৬-১ গোলে এগিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ফিরে এসে দাপট চলতেই থাকে সাবিনাদের।
দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে দূরপাল্লার শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। একটু পরই মাতসুশিমা সুমাইয়া ব্যবধান আরও বাড়ান। পঞ্চম মিনিটে ডান পায়ের বুলেট শটে স্কোরলাইন ৯-১ করেন সাবিনা। একটু পর নিলুফা আক্তার নীলা দলকে দশম গোল উপহার দেন। ৩০ মিনিটে লিপি আক্তার হ্যাটট্রিক করেন। সাবিনার উৎস থেকে কৃষ্ণার দারুণ পাসে লিপি পায়ের টোকায় দলকে ১১তম গোল এনে দেন।
এরপর কৃষ্ণাও গোল পান। ডান পায়ের শটে জাল কাঁপান এই ফরোয়ার্ড। কৃষ্ণার পর অভিষেক গোল করেন মেহেরুনও। ৩৬ মিনিটে মাসুরা পারভীন গোলকিপারের ফাঁক দিয়ে দলকে ১৪তম গোল এনে দেন। শেষ দিকে এসে মালদ্বীপের মারিয়া এক গোল শোধ দিলেও বড় হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ততক্ষণে প্রথম আসরের শিরোপা জয়ের উৎসব শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
সাত দলের টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচ শেষে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে আসর শেষ করল বাংলাদেশ। সাফের বাইলজ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দলের হাতে তুলে দেওয়া হবে শিরোপা।





