মৌলভীবাজারে ৩ ডাকাত আটক, অস্ত্র উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৩:১৮ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পৃথক অভিযানে ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়াসহ ৩ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) ও একটি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো- রাজনগর উপজেলার বুড়িকোনা গ্রামের সৈয়দ মখলিছুর রহমানের পুত্র সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০), হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার হরিধপুর গ্রামের ফটিক মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (৪০) ও সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কালনিরচর গ্রামের মৃত জয়তুন উল্লাহর পুত্র আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরপে আশাই (২৯)।
পুলিশ জানায় এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২টি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান), ২১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১টি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ৬/৭ জনের একটি ডাকাতদল কবরস্থানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় স্থানীয় জনতা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে ডাকাতদল একটি গুলি ছোঁড়ে। এতে তাদের দলের সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আহত অবস্থায় শামসুর রহমান আতিককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে ও আটককৃত ডাকাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ এপ্রিল সিলেটের সিলামসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত রুবেল মিয়া ও আশরাফ হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যমতে একই দিন ভোরে সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার মথাখাই (পশ্চিম বাড়ন্তি) গ্রামে রাস্তার উত্তরে খালপাড় সংলগ্ন একটি কলা বাগান হতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পাইপগান এবং একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বরাত দিয়ে জেলা পুলিশ আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত ৩ জন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে ডাকাতিসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫ টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।




