শান্তিগঞ্জে সরকারীভাবে ধান কেনা শুরু : দামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মে ২০২৬, ৯:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: সাইফুল মিয়া (৫০), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের এক প্রান্তিক কৃষক| দেখার হাওরের নিয়মিত চাষি তিনি| জীবনের অধিকাংশ সময়ই কৃষিকাজে কাটালেও সরকারের চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে-এ তথ্য তার অজানা| শুধু তিনি নন, জেলার হাজারো কৃষকই জানেন না সরকারিভাবে এবার ধানের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মণ ১৪৪০ টাকা|
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগেই হাওরের পরিস্থিতি ও ˆবরী আবহাওয়ার কারণে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে প্রশাসন| রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয়| তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা-প্রান্তিক কৃষকরা এখনো সরকারি দামের বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ|
অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় মধ্য¯^ত্বভোগী ও ফড়িয়ারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছে প্রতি মণ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়| তারা ভেজা ও আর্দ্র ধানের অজুহাত দেখিয়ে দাম কমিয়ে দিচ্ছে| এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা|
সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দিরাই, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরের বেশিরভাগ ফসলই পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে| অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় পাকা ধান কাটা ও শুকানো কঠিন হয়ে পড়েছে| হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় শ্রমিক দিয়ে দ্রুত ধান কাটতে হচ্ছে, যার খরচও বেড়ে গেছে| এমন পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বাধ্য হচ্ছেন কম দামে ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে|
দেখার হাওর পাড়ের জানীগাঁও গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, খরিদদাররা খলায় এসে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মন দরে ধান কিনে নিচ্ছে| রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না| অনেক ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে| অথচ সরকারিভাবে দাম ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে-এটা আমরা অনেকেই জানতাম না| তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষক আগেই ঋণ বা অগ্রিম টাকার বিনিময়ে ধান বিক্রি করে দিয়েছেন| ফলে এখন বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে ফসল ছাড়তে হচ্ছে|
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি দামের তথ্য মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি| পাশাপাশি সরকারি গুদামে ধান দিতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলেও তারা জানান| তারা মনে করেন, মাঠপর্যায়ে সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম চালু এবং প্রচারণা বাড়ালে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতেন|
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বি এম মুশফিকুর রহমান জানান, ১৪৪০ টাকা দরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে| কৃষকদের অবগত করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়েছে| এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে| তিনি আরও জানান, ভেজা ধান নিয়ে সমস্যার কারণে অনেক কৃষক এলএসডিতে ধান শুকিয়ে জমা দিতে পারবেন| ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে|
শান্তিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আবদুর রব বলেন, ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা বজায় রেখে ধান বিক্রি করতে হবে| মান নিশ্চিত করতে স্যাম্পল পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক|
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, মধ্য¯^ত্বভোগীদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে| সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে| তিনি আরও জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের ধান শুকানোর জন্য এলএসডি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে|




