বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মে ২০২৬, ৮:২১:২১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। রবিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কয়েকদিন আগের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়।
তবে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও কয়েকটি নদী এখনও প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেটে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৫টি নদীর ৫টি পয়েন্ট এখনও প্রাক-মৌসুমী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে এবং নেত্রকোনার মগড়া নদী বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ভুগাই-কাংসা, সোমেশ্বরী ও হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানিও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কাংসা নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিন এই অঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি এবং তৃতীয় দিনে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। কোথাও কোথাও দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রবিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৪৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নগরীর কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও বড় ধরনের নতুন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তবে হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনও আতঙ্কে রয়েছেন।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে।
এদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু নদীর পানি আগামী একদিন কমে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সুতাং নদীর পানি আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান বলেন, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় উন্নতির দিকে।
তিনি বলেন, “সার্বিকভাবে পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় ভালো। নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে।”
মঞ্জুর রহমান জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল হ্র্রাস পেয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেটসহ আট জেলার কিছু স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় থাকায় আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।





