রোমাঞ্চ ছড়িয়ে বাংলাদেশের জয়
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ মে ২০২৬, ৭:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক : সব রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছিল শেষ দিনের জন্যই। ড্র, বাংলাদেশের জয়, পাকিস্তানের জয়-তিন ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি-তিন সংস্করণেই পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ।
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্ট জয়ের পর এবার মিরপুরে পাকিস্তানকে হারিয়ে তাদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।
মিরপুরে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে খেলা হয়েছে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায়। সোমবার চতুর্থ দিনে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে যথাসম্ভব বেশি সময় ব্যাটিংয়ে পাঠালে বাংলাদেশ জিতবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। শিষ্যরা কাল তা-ই করলেন। দ্রুত ইনিংস ঘোষণার পর বোলিংয়ে পাকিস্তানকে রীতিমতো নাজেহাল করে ছেড়েছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন পুরোদস্তুর ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। ১৮৮ রানের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও যথেষ্ট চটপটে দেখা গেছে শান্তকে। শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানের আয়েশি জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
হাতে ৭ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ ছিল পাকিস্তানের সামনে। চা পানের বিরতির আগে তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও শেষ বিকেলে ড্রয়ের লক্ষ্যেই খেলতে থাকে সফরকারীরা। তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের জন্য। ৪৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
প্রথম ইনিংসে ১০৪ রানে ১ উইকেট পাওয়া রানা দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শান মাসুদ, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলী, শাহিন শাহ আফ্রিদি-এই পাঁচ ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন রানা। যেখানে ৫৩তম ওভারের শেষ বলে আফ্রিদিকে দারুণ এক বাউন্সার ছোড়েন রানা। গ্লাভসে লেগে বল চলে যায় শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা জয়ের হাতে। শাহিন রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। জায়ান্ট স্ক্রিনে লাল অক্ষরে আউট লেখার পরই উদ্যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রানে মঙ্গলবার পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শেষ দিনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান যোগ করার পর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৫০ বলের ইনিংসে ৭ চার মেরেছেন তিনি। ১৩ রান করলে রেকর্ড গড়া এক সেঞ্চুরিই করতে পারতেন তিনি। কিন্তু নোমান আলীর বলে এলবিডব্লু হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নোমান ৩ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিয়েছেন ১০১ উইকেট। হাসান আলী ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ডিপ স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান করলে লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রানের। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ৩ রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারের শেষ বলে তাসকিন আহমেদের গুড লেন্থের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে ইমাম উল হক (২) ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে।
দ্রুত প্রথম উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন দুই অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৬৭ বলে ৫৪ রানের জুটি। এই জুটির ৪.৮৪ রানরেটে ব্যাটিং কিছুটা বাংলাদেশকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। তবে ১৩তম ওভারের প্রথম বলে মিরাজকে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান আওয়াইস। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১০৩) করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১৫ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৪১৩। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ৭০.৩ ওভারে ২৪০/৯ ডি. (আগের দিন ১৫২/৩) (শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন ১১, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩, তাসকিন ১১, ইবাদত ৪*; আফ্রিদি ১৬-২-৫৪-২, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১৭.৩-২-৫২-৩, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ১৮-১-৭৬-৩)।
পাকিস্তান ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ২৬৮ রান) ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ (আজান ১৫, ইমাম ২, ফাজাল ৬৬, মাসুদ ২, সালমান ২৬, শাকিল ১৫, রিজওয়ান ১৫, নোমান ৪, হাসান ১, আফ্রিদি ০, আব্বাস *; তাসকিন ১০-১-৪০-২, মিরাজ ১৭-৩-৪৭-১, নাহিদ ৯.৫-২-৪০-৫, ইবাদত ২-০-৯-০, তাইজুল ১৪-৩-২২-২)।
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী। সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে। ম্যান অব দা ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত।




