বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর ভিসানীতি যুক্তরাষ্ট্রের
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জুলাই ২০২৬, ৮:২৪:২০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরো কঠোর করার পরিকল্পনার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নীতি অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মধ্যে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এতদিন পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা ছিল।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কার্যকর হতে যাওয়া এ নীতিমালা ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে। তবে এ নীতিমালাকে ‘মিসগাইডেড বা ভুলভাবে নির্দেশিত ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস।
এর আগে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারী বিদেশী শিক্ষার্থীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেতেন। এর অর্থ ছিল, ডিগ্রি সম্পন্ন করতে যত সময় লাগবে, ততদিন তারা দেশটিতে থাকতে পারবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ নীতি শিক্ষার্থীদের সেই অবস্থানের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করবে।
নতুন ভিসানীতি নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, দশকের পর দশক ধরে বিদেশী শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া এড়াতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে অভিবাসন ব্যবস্থা অপব্যবহার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ স্নাতক পর্যায়ের কোর্স সাধারণত চার বছরের। তবে ডক্টরেটসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কোর্স সম্পন্ন করতে আরো বেশি সময় লাগে। দেশটিতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই স্নাতকোত্তর পর্যায়ের, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ক কোর্সে ভর্তি হন। এসব কোর্সে গবেষণা শেষ করে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে সাধারণত বেশি সময় প্রয়োজন হয়। নতুন নীতি অনুযায়ী, বিদেশী শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করার পর অথবা অন্য ভিসা শ্রেণীতে পরিবর্তনের পর ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। আগে এ সময়সীমা ছিল ৬০ দিনের।
বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা নাফসার প্রধান নির্বাহী ফ্যান্টা আও বলেন, নতুন নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে পরিচালিত একটি ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান, যার বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।






