দুই পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার উপরে: বন্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০১:৫৬ অপরাহ্ন
# দিনে রোদের চোখ রাঙানি, বিকেলে বৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টার: দিনের শুরুতে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম। দুপুর গড়াতেই আকাশে মেঘের আনাগোনা, এরপর কোথাও কোথাও ঝুমবৃষ্টি। এমন বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই ভারতের মেঘালয় ও আসামের উজানে অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেটে আবারও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত মহানগর এলাকায় বড় ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি, তবে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টেও পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর রয়েছে। তবে সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনে পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৯ শতাংশ, যা সন্ধ্যা ৬টায় বেড়ে ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। অনেক স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও বেড়েছে। আগামী একদিন পানি বাড়তে পারে, এরপর দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই সময়ে কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের বুধবারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৭০ মিটার, যা বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটারের মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে সিলেট শহর পয়েন্টে সুরমার পানি ১০ দশমিক ০১ মিটার, যা বিপদসীমার নিচে থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি ১৫ দশমিক ৪৪ মিটার, যা বিপদসীমার খুব কাছাকাছি। শেওলা পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৮০ মিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে ৯ দশমিক ৮২ মিটার এবং শেরপুরে ৮ দশমিক ৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাটে ১০ দশমিক ০৮ মিটার, পিয়াইন নদীর জাফলংয়ে ৯ দশমিক ৬৭ মিটার, সারিগোয়াইনের গোয়াইনঘাটে ৯ দশমিক ৫০ মিটার, লোভাছড়ায় ১৩ দশমিক ০৫ মিটার এবং ধলাই নদীর ইসলামপুরে ৯ দশমিক ৫৩ মিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর অধিকাংশই এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের উজানেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৬৭ মিলিমিটার, মৌসিনরামে ৫৯ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৫৭ মিলিমিটার এবং আরকেএম সোহরায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের জাফলংয়ে ৫৭ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উজানে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সিলেট অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






