দোয়ারায় হামের প্রকোপ, ৫ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৪:২৪ অপরাহ্ন

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হামের প্রকোপ বেড়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি। গত ১৫ দিনে শতাধিক শিশু-কিশোর হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। এ পর্যন্ত হাম-পরবর্তী জটিলতায় পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শনিবার হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৃথক ইউনিট চালু রাখা হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত জ্বর দিয়ে হামের উপসর্গ শুরু হয়। প্রথম দুই দিন জ্বর থাকার পর তৃতীয় দিনের দিকে শরীরে লালচে দানা দেখা দিতে পারে। চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাম সন্দেহ করা হয়। শিশুদের মধ্যে বিশেষ করে ৩ থেকে ৫ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় শিশুদের নিয়মিত ইপিআই টিকা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৫ দিনে শতাধিক শিশু-কিশোর হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। টিকা নেওয়া শিশুদের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রায় চার হাজার শিশু এখনো হাম প্রতিরোধী টিকার আওতার বাইরে রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ফলে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে. এম. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। শিশুদের কাছ থেকে সহজেই বড়দের শরীরে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে পৃথক ইউনিট চালু করা হয়েছে। উপজেলার প্রায় চার হাজার শিশু এখনো হাম প্রতিরোধী টিকার আওতার বাইরে থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।






