সিআরই ট্রাস্টের আয়কর নথি জব্দে দুদকের আবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৫:১৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, নসরুল হামিদ (বিপু), আ হ ম মোস্তফা কামালসহ ৮ জনের পরিচালিত সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশের আবেদন জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্পেশাল জজ আদালতে এই আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এ কে এম মাহবুব আলী সাগর। বিকেলে কমিশনের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নামে ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান খুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহেনার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেকমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু), আ হ ম মোস্তফা কামালসহ অন্যরা কোটি কোটি টাকা অনুদান তুলে সেই টাকার কর না দিয়ে মিলেমিশে আত্মসাৎ ও পাচার করে।
দুদক জানায়, এই ঘটনায় দুদকের দায়েরকৃত মামলার তদন্তে উক্ত ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নামে সার্কেল-১১৬, কর অঞ্চল-৬, ঢাকা এর শুরু হতে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করার আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হয়।
আদালতে আবেদনে দুদকের মামলার বাদী জানান, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের ট্রাস্টি, সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, নসরুল হামিদ (বিপু), শাকিল বিন শামস, রওশন আরা আকতার, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, আ হ ম মোস্তফা কামাল, অসৎ উদ্দেশ্যে জনকল্যাণের নামে গঠিত নামসর্বস্ব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদানকৃত টাকার এবং উক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হিসেবে প্রাপ্ত টাকা আয়কর আইনের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আয়কর মওকুফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে বা অপরকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ এবং অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক নামসর্বস্ব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন গঠন করে। এটি জনকল্যাণমূলক কাজ না করে এবং সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান না হওয়া সত্ত্বেও উক্ত প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ কর সুবিধা প্রদান করে এসআরও জারি করে কর সুবিধা প্রদান করে ও গ্রহণ করে অবৈধভাবে বিভিন্ন কোম্পানিকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করে সিআরআই এর হিসেবে ২৩টি কোম্পানির নিকট থেকে ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে ২০১৩-২০১৪ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত মোট ১০০ কোটি ৫১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৬ টাকা অবৈধভাবে আয় করে।
উক্ত আয়ের মধ্যে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫১ হাজার ২২১ টাকা আত্মসাৎ করে এবং ২৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২৪৭ কোটি ৮৫লাখ ০৬ হাজার ১৭০.৮৭ টাকা জমা এবং ১২৯ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ০৫১.৬৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৩টি হিসাবে মোট ৪০১ কোটি ০৬ লাখ ১২ হাজার ৮৮০.৭১ টাকা লেনদেন করে ও ৩৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৫১ টাকা আয়কর প্রদান না করে সরকারের ক্ষতি সাধন করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিভিন্ন ব্যক্তিতে হস্তান্তর করে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে আত্মসাৎপূর্বক দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলা করা হয়।
আবেদনে দুদকের মামলার বাদী আরো জানান, ‘খ’ ক্রমিকে বর্ণিত মামলার তদন্তের নিমিত্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের সার্কেল-১১৬, কর অঞ্চল-০৬, ঢাকা এর শুরু হতে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।
আবেদনে দুদকের মামলার বাদী সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এর আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করার আদেশ দিতে আদালতে অনুরোধ জানান।





