নকশা মেনে ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তদারকিতে সিউক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৫১:২৫ অপরাহ্ন

পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। অনুমোদিত নকশা অমান্য, বিধিমালা লঙ্ঘন, নির্ধারিত খালি জায়গা না রাখা, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করা এবং নির্মাণসামগ্রী রেখে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো তদারকি করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনের বেইজমেন্ট ও নিচতলায় জমে থাকা পানি অপসারণেও ভবনমালিকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করলে কিংবা নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করলে ভবনের কমপ্লিশন ও অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পরিদর্শনকালে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, সিউকের ধারাবাহিক তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হবে।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন নগরের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, নির্ধারিত সেটব্যাক ও ভবনের উচ্চতা ঠিক রাখা হচ্ছে কি না এবং ভবনের সামনে প্রয়োজনীয় জায়গা ছাড়া হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে।
সিউক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার খাদিমপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে আগামী রোববারের মধ্যে নিজ দায়িত্বে জমে থাকা পানি অপসারণের জন্য ভবন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন সিউক চেয়ারম্যান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণ না করা হলে পুনরায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
সিউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন নির্মাণে শুধু মালিক নন, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, ভবনের কমপ্লিশন সার্টিফিকেট এবং পরবর্তী সময়ে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অকুপেন্সি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ গ্রহণ করা হয়।
পরিদর্শনে কয়েকটি ভবনে তদারকির ঘাটতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ভবনমালিক নির্মাণকাজের কারিগরি বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। আবার কোথাও কোথাও প্রকৌশলীদের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়াই ঠিকাদারেরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বহুতল ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ ধরনের প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে কয়েস লোদী বলেন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা শুধু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সিউকের চলমান উদ্যোগে নগরবাসী ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি






