থমথমে গোপালগঞ্জ, জনমনে আতঙ্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুলাই ২০২৫, ৯:৫২:০৫ অপরাহ্ন
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা পুলিশের

জালালাবাদ রিপোর্ট : গোপালগঞ্জে সংঘাতের ঘটনার পর শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো কারফিউ জারি ছিলো। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। সকাল থেকে জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা। খুব কম সংখ্যক ছোট যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো কিছুর চলাচল চোখে পড়েনি। শহরের ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সাধারণ ক্রেতা ও সেবাপ্রত্যাশীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সব মিলিয়ে গোটা গোপালগঞ্জজুড়ে এক থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
সকাল থেকে বিভিন্ন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাড়ে।শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকার কথা ছিলো। এরপর সন্ধ্যায় পুনরায় বিবেচনা করে কারফিউ শিথিল অথবা বাড়ানো হতে পারে।
এর আগে, বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে ২২ ঘণ্টার কারফিউ শুরু হয়, যা চলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এরপর সেটি আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ করা হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে কারফিউয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ কামরুজ্জামানও একই তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা শুক্রবার ৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে সদর থানার পরিদর্শক আলী আহম্মেদ বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
সারা দেশে মাসব্যাপী পদযাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার গোপালগঞ্জে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। তার আগের দিন মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে তারা এটিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ হিসেবে নামকরণ করেন। এরপর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গোপালগঞ্জের স্থানীয় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা সেটি প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর গোপালগঞ্জে যাওয়ার পথেই বাধা পায়। এ ছাড়া সেদিন সকালে পুলিশ এবং ইউএনওর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের দায়ী করা হয়।
দুপুরে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশস্থলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। হামলার কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান এনসিপি নেতারা। তারা সেখানে স্লোগান ও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে তারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দিলে তাদের গাড়িবহর ঘিরে হামলা করা হয়।
এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এনসিপি নেতাদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে গতকাল পর্যন্ত পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ শহরে পথসভা ও পদযাত্রার আয়োজন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতারা দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াতসহ নানা সংকট তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের কৃষি ব্যাংক চত্বরে শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুরে।
এতে অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও সামান্তা শারমিনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সকাল থেকেই কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া পুলিশ ও সেনাবাহিনীকেও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।






