মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:১৯:২৮ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী (হিট সেন্সর) ব্যবহার করে একের পর এক অভিযানে আটক হচ্ছেন শত শত অবৈধ অভিবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে পরিচালিত সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ মোট ২১৮ জন অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এই অভিযানটি চালানো হয় একটি বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক স্থানে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, এলাকাগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের আধিপত্য ও অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তর, নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের মোট ২৭৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। পাশাপাশি জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর ১০ জন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে মোট ১ হাজার ৮৭ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনসহ ইমিগ্রেশন আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ ভবনের ছাদে, কেউ সিলিংয়ের ওপরে লুকিয়ে পড়েন। তবে আধুনিক তাপ শনাক্তকারী সেন্সরযুক্ত ড্রোনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এতে অভিযানের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে সাধারণ জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্যাটিআই (অবৈধ অভিবাসী) সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।





