যুদ্ধে গড়ালো পাকিস্তান-আফগানিস্তান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৩:৩৪ অপরাহ্ন
২৭৪ আফগান সেনা নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংস
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহতের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংঘাত অবশেষে যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আফগানস্তিানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন আফগান তালেবান সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। এ ছাড়া অভিযানে ৪ শতাধিক আফগান সেনা আহত হয়েছেন, ৭৩টি চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৭টি চৌকি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। জবাবে পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানায়, শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এসব দাবি করেন।
জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী আরও জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আফগান বাহিনীর অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তান বাহিনী আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায়’ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান বাহিনী। আফগানিস্তানের ২২টি স্থানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)- এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারশন গজব-লিল হক’ অভিযানে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন।
ওদিকে, পাকিস্তানে বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে আফগান বাহিনী। শুক্রবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র মৌলভী জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এই ঘোষণা দেন।
এদিকে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘাত নিরসনে অবিলম্বে ‘জরুরি রাজনৈতিক সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক। সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ পরিহার করে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসার অনুরোধ জানান তিনি। খবর আলজাজিরার।
শুক্রবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের একটি অধিবেশনে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তুর্ক এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান এই অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।





