দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামে মৃত্যুও সংখ্যা দাড়াঁলো ২১১ জনে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং দুইজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। নিশ্চিত হামে আক্রন্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুর মধ্যে দুইজন বরিশাল, একজন ঢাকা বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজনই ঢাকা বিভাগের।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৭ শিশু। যাদের অধিকাংশই ঢাকা বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২১১ জন। এরমধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইসময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বলছে, দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে। তারা বলেছে, ইতিমধ্যে বেশি সংক্রমণ এমন এলাকাগুলোয় (হটস্পট) টিকাদান চলছে। দেশব্যাপী টিকাদান শুরু হবে তিন দিন পর, ২০ এপ্রিল। এর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের বিচ্ছিন্ন রেখে (আইসোলেশন) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই টিকার একটি ডোজও পায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত শিশুদের মধ্যে ৪৭ শতাংশেরও বেশি কোনো ধরনের টিকা গ্রহণ করেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, অপর্যাপ্ত টিকাদানই এই ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ। তিনি টিবিএসকে বলেন, ‘হার্ড ইমিউনিটি তৈরি না হওয়ায় হাম সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করলে এটা আরও কমে যাবে। আশা করি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।
তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।
যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?
ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।
তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।




