চোরাইপণ্যের স্বর্গরাজ্য সিলেট সীমান্ত
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতীয় চোরাই পণ্যের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে সিলেট জেলার সীমান্ত এলাকা| মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে সোয়া ৩ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)| তবে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করলেও চোরাকারবারীদের আটক করতে পারেনি বিজিবি| ভারতীয় এসব পণ্য চোরাকারবারে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশপাশি স্থানীয় চোরকারবারীরাও জড়িত| ফলে সবসময় এসব অপরাধীরা অধরাই থেকে যায়|
বিজিবি বলছে, চোরাকারবারীদের ধরতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে| বিজিবি তৎপরতার কথা বললেও সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়েই প্রতি মাসে দেশে অর্ধশত কোটি টাকার চোরাই পণ্য আসে| চোরাই পণ্য আসলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারায়, অপরদিকে নিম্নমানের পণ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে ভোক্তারা|
বিজিবির তথ্য বলছে, রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ৯৩ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)| গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে ৪৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের আওতাধীন গোয়াইনঘাট উপজেলার বাংলাবাজার, তামাবিল, লবিয়া, প্রতাপপুর, মিনাটিলা, সোনারহাট, শ্রীপুর ও বিছনাকান্দি বিওপির জওয়ানরা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবি জওয়ানরা| অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, মহিষ, চিনি, চা-পাতা, কম্বল, ক্লপ জি ক্রিম ও মদ আটক করে| আটককৃত চোরাই পণ্যের মূল্য ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ৩০ টাকা|
৪৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে| এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান মালামাল আটক করা হয়| আটককৃত চোরাচালানী মালামাল সমূহের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
একদিন আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেটের ˆজন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) জওয়ানরা| গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট সেক্টরের আওতাধীন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল ˆজন্তাপুর উপজেলার গুয়াবাড়ি বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শনিবার ভোরে অভিযান চালায়| এ সময় সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ভেতরে ফেরীঘাট এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৪৬০ কেজি ভারতীয় জিরা এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়| জব্দকৃত এসব পণ্যের মূল্য ৪০ লাখ ৫২ হাজার টাকা| এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একই ব্যাটালিয়নের সুরাইঘাট, লালাখাল, ˆজন্তাপুর ও আটগ্রাম বিওপি’র পৃথক টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় পাঁচটি মহিষ, ৩০০ কেজি চিনি, ৫০ কেজি জিরা এবং ৩৪ কেজি চা পাতা জব্দ করে| এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা| জব্দকৃত মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬০০ টাকা| ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, জব্দকৃত মালামাল কাস্টমসে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে| চোরাকারবারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে|
অপরদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী দোবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা ও কসমেটিকস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)| গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫২ বিজিবি (বিয়ানবীবাজার ব্যাটালিয়ন) অভিযান চালিয়ে এই ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করে| বিজিবি জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ভারতীয় জিরা ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী রয়েছে, যা অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছিল| তবে এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারীদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে|
এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বলেন, পণ্য চোরাচালান দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি| এর ফলে দেশীয় বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়| পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অপরাধ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে| তিনি আরও জানান, সীমান্তে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করে বিজিবি এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে| দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে|





