উৎসবের আমেজে সিলেটে বর্ষবরণ: ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৭:৪১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে সর্বত্র।
এবারের নববর্ষেও বার্তায় উঠে এসেছে এক অভিন্ন সুর, নতুন বছরে অতীতের গ্লানি ভুলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে তাদের প্রত্যাশা-বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধির পথে।
এসব কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দিনটি মিলনের বন্ধনে আবদ্ধ করে সবাইকে। নববর্ষের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। নববর্ষকে নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।
জেলা প্রশাসন: সকাল ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। এরআগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংগীত এবং বৈশাখী সংগীত ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। শোভাযাত্রার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন সারদা হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
এতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থী এবং ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে সারদা হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করে। এছাড়া ক্বীন ব্রিজের নিচে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিশু পরিবার (এতিমখানা) সমূহে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
সিসিক: সকাল সাড়ে ৮টায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে নগরভবন প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। পরে এটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় সিসিক প্রশাসক বলেন বাংলা নববর্ষ উদযাপন আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এ ঐতিহ্যকে ধারণ করেই সিটি কর্পোরেশন প্রতি বছর নানা আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন করে।
শোভাযাত্রায় সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাবিপ্রবি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল নববর্ষের রঙিন উচ্ছ্বাস। বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মাছ, তরমুজ, ডাকটিকিটের বক্স, হাতপাখাসহ নানা ঐতিহ্যের প্রতীক নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন-ই এর সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রাটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা।
শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উন্নয়নে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবও। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা যেন নববর্ষের শপথ নিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে। শিক্ষাজীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; পড়ালেখা ও খেলাধুলা উভয় ক্ষেত্রেই একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে।
এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ছাত্র উপদেশ নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ইফতেখার রহমান।
সিকৃবি: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নববর্ষকে বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় নববর্ষের আনন্দ আয়োজন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম।
এরপর সকাল ১০টায় বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয় এবং সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শুরু হয় বিনোদন সংঘের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিতে ভরপুর এই আয়োজন ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. নির্মল চন্দ্র রায়, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, রেজিস্ট্রার (অ.দা.) প্রফেসর ড. মোঃ আসাদ-উদ-দৌলা, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ খসরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তর প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
লিডিং ইউনিভার্সিটি: পুরোনো বছরের ব্যর্থতা, গ্লানি পেছনে ফেলে নতুন বছরে নতুন সম্ভাবনায় অগ্রগামী হওয়ার প্রত্যাশায় ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…’ গানের সুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করেছে লিডিং ইউনিভার্সিটি। বর্ষবরণ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রায় লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাগীব আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাগীব আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভুঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মাহবুবর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। লিডিং ইউনিভার্সিটির কালচারাল ক্লাবের সদস্য ফাইমা বাসিসা কুরেশি এবং হাসানুল বান্নার সঞ্চালনায় বর্ষবরণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কোরাস গান, কবিতা, থিয়েটার নাটক এবং নৃত্য পরিবেশন করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও কালচারাল ক্লাবের সদস্যবৃন্দ।
নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি: নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এনইইউবি) এ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
এনইইউবি ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, স্কুল অব সায়েন্সের ডিন ও পাবলিক হেলথের বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর ডা. রঞ্জিত কুমার দে, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস এর ডিন ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ শামসুল কবির, এনইইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. লিয়াকত আলী শাহ ফরিদী, পরিচালক (অর্থ) অশোক রঞ্জন চৌধুরী, আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নূর জাহান কাকলী। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির চেতনায় নতুন বছরকে বরণ করে নেন।




