আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, সফল করেই ঘরে ফিরবো : ডা: শফিক :
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৯:৫৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সারা দেশে এখন আন্দোলন চলছে। শুরু হবে কি, শুরু তো হয়েই গেছে। এখন তিলে তিলে সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে এক সেমিনারে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য।
রাজপথের আন্দোলন সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ডা: শফিকুর রহমান। তিনি এই আন্দোলনে দেশবাসীকে পাশে চান।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রোডাক্ট (জুলাই আন্দোলনের ফসল) বলে উল্লেখ করেন ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশা আল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমেই জুলাইয়ের আকাঙ্খা ইনশা আল্লাহ বাস্তবায়ন হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের দেশে বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়াচাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয় জাতি বুঝে। ওই ঘুড়ির নাটাইটা কোথায়। ওখান থেকেই এটা নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। এ জন্যই অস্থিরতা। এক সময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না, এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোশত হালাল, কিন্তু ঝোলটা তার হারাম।
সংসদ অধিবেশন নিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরাও সমানতালে চালিয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। সুযোগ পাই, না পাই, আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, ‘এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা সেখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে স্বেচ্ছায়, অবলীলায় ছেড়ে দিয়েছি, নেবই না। যেটা না নিয়ে পারব না, সেটা নেব। বাধ্য হব যেটাতে। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ ও হাত যাবে না।
সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারি দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো। এখন সংসদে তাদের কয়েকজন বর্তমান বিরোধী দলকে লক্ষ করে একই রকম কথা বলা শুরু করেছে। তাদের জিহ্বা সংযত করতে হবে। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পায় না। অতীতে যারা এমন আচরণ করেছে, তাদের পরিণতি চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। অপকর্ম করলে আগেরটার চাইতে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হবে।
ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, যে ব্যাংক দেশের ‘রেমিট্যান্সের ৩২ ভাগ একা আহরণ করে’ এই ব্যাংকের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।
বিরোধী দল শুধু রাজনীতির পটপরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পটপরিবর্তন করতে চায় উল্লেখ করে ডা: শফিক বলেন, অপসংস্কৃতি যেখানে, সেটা ব্যাংকিং সেক্টর হোক আর যেখানে হোক, অর্থনীতিতে, সংস্কৃতিতে, শিক্ষা ব্যবস্থায়, তারপরে দেশের আইন অঙ্গনে যেখানেই হোক ইনশা আল্লাহ আমরা বসে বসে আঙুল চুষব না। আমরা জনগণের সঙ্গে থাকব, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার মোকাবিলা করব।
সেমিনারে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায়কে এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। বিএনপি এখন জুলাই সনদ বনাম জুলাই আদেশ নিয়ে কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে। তারা বলছে, জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, তবে জুলাই আদেশ অবৈধ। এই জুলাই আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট হয়েছিল।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর সেই ভূতে বিএনপি সরকারের ওপর চেপে বসেছে। ভূতটা হলো জনগণকে অপমান করার ভূত। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলকে সংক্ষেপে বললে সেটা ছিল জনগণকে উপহাস ও যেখানে-সেখানে অপমান করা।
এখন সংসদে দাঁড়িয়ে গোটা জাতিকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হয় বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন সংসদে বলেছেন, মানুষ না বুঝে গণভোটে ভোট দিয়েছে। তিনি মাস্টার সেজে সংসদ সদস্য ও জনগণকে সংবিধান শেখাতে চান। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতার ৫ বছরের এখনো অনেক বাকি। এখনই বিএনপি কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাচ্ছে। তাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। কি-নোট উপস্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির।
আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী রুবী আমাতুল্লাহ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম (বুলবুল), খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি আবদুল হক, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আইনজীবী শাহরিয়ার কবির, আইনজীবী বেলায়েত হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।




