সিলেটে সিলিন্ডার নৈরাজ্য চলছেই
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৪:২৫ অপরাহ্ন
দাম বাড়িয়েও মিলছেনা সরকারী মূল্যে

এমজেএইচ জামিল : দাম বাড়ানোর অজুহাতে কিছুদিন আগেও সিলেটের বাজারে ১৪০০ টাকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। এরপর সরকার এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারণ করে ১৭২৮ টাকা। এরপরও সিলেটে ২ হাজার টাকার নিচে মিলছেনা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এ নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। প্রশাসনের কড়া মনিটরিং না থাকায় সিলেটে সিলিন্ডার নিয়ে রীতিমত নৈরাজ্য চলছে।
এদিকে সিলিন্ডার নিয়ে সিলেটের পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। পাইকারী বিক্রেতারা বলছেন দাম বৃদ্ধির কারণে সরবরাহ বাড়লেও কমেছে চাহিদা। ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। অপরদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবী চাহিদামতো সিলিন্ডার না পাওয়ার কারণে তাদেরকে অতিরিক্ত মুল্যে বিক্রি হচ্ছে।
রোববার সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট জুড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ভোক্তা পর্যায়ে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৩৫ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫৫০০ টাকা। কোম্পানি থেকেই বেশি দামে ক্রয় করার অজুহাত দেখিয়ে খুচরা বিক্রেতারা এরচেয়ে বেশী মূল্য আদায় করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। এর সাথে অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে হোম ডেলিভারির খরচ।
বিক্রেতারা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে এলপিজির দাম বেড়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় যোগান কমেছে। এতে করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার দিতে পারছেন না তারা। সরকারি দামের চেয়ে বেশি দরে যেখানে কোম্পানি থেকে কিনতে হয়, সেক্ষেত্রে ভোক্তাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয় তাদের। তাই সরকারের সাথে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে একটি সমঝোতার দাবি ব্যবসায়ীদের। আর ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে দাম এত বেশী টাকা বৃদ্ধির কারণে বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় প্রভাব পড়ছে।
সিলেটের অন্যতম বৃহৎ ডিস্ট্রিবিউটার মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, জাতভেদে ১২ কেজির সিলিন্ডারের পাইকারী দাম সর্বনিম্ন ১৭৫০ থেকে ১৮৫০ টাকা। এ থেকে সিলিন্ডার প্রতি ৫০ টাকার বেশী মুনাফা করার সুযোগ নেই। এরপরও খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। এর দায় পড়ছে আমাদের উপর।
তিনি বলেন, এ মাসের শুরু থেকে সিলিন্ডারের চাহিদা অর্ধেকে নেমে এসেছে। দাম বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকগণ ইলেকট্রিক চুলা, লাকড়ী চুলাসহ অন্যান্য প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এতে সিলিন্ডারের চাহিদা কমেছে। কিন্তু আমাদের পরিবহন খরচ, জনবল খরচ আগের মতই রয়েছে। শীঘ্রই আমরা ব্যবসায়ীরা বসে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো। সিলিন্ডারের দাম কমানো ছাড়া এই মার্কেট ধরে রাখা যাবেনা।
নগরীর কানিশাইল এলাকার প্রাইভেট চাকুরীজীবি আরিফুর রহমান শরীফ জানান, আমি অল্প আয়ের মানুষ মাসে একটি সিলিন্ডার লাগে। আগে লাগতো ১৫/১৬০০ টাকা। এখন এক লাফে ২ হাজারা টাকায় পৌঁছে গেছে। জীবন জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। হয়তো আমাদেরকে সামনের দিনে রান্নার জন্য বিকল্প চিন্তা করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর পাঠানটুলা এলাকার এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, চাহিদার তুলনায় সাপ্লাই খুবই কম। এই কারণে দাম বেশি। কোম্পানির দাম আর সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে গরমিল রয়েছে। তাই ভোক্তাদের সাথে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা হয়। চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানি সাপ্লাইও দিতে পারছে না। কোম্পানির সাথে সরকার যদি বসে সমঝোতা করে, তাহলে সরকারি দামে বিক্রি করা যাবে।
প্রসঙ্গত, ১ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭২৮ টাকা, যা আগের মাসের তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা বলেন, আমাদের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তবে সিলিন্ডারের মূল্যের বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেরাই অনেক সময় সংকটে পড়ে যাই। কারণ সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে পাইকারী বিক্রেতাদের ক্রয়মূল্য বেশী থাকে। এমনকি তারা প্রমাণ হিসেবে পাকা রশিদও রাখেন। তখন চাইলেও আমরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারিনা।
তিনি বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছি যে ক্রয়মূল্য ও যানবাহন খরচ আলাদা করে লিখে রাখতে এবং দোকানে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখতে। ইতোমধ্যে নগরীতে এটি শুরু হয়েছে।




