সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জুলাই ২০২৬, ৬:৫০:০১ অপরাহ্ন
আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আইনমন্ত্রী
জালালাবাদ ডেস্ক: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোটের বিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে টানা তিন দিনের শুনানি শেষে বুধবার আপিলের রায় ঘোষণার জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
হাইকোর্ট গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত বিধানসহ কয়েকটি অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা নষ্ট হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। এ কারণে পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে গণভোট বাতিল-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আগের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকি বিধানগুলো বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সেগুলো সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।’ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তবর্তী সরকার থাকবে, সব শ্রেণির মানুষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।’
জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যা যা করা দরকার সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রায়ে ৫৪টি বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে ৫৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া এই রায়ে অন্তত চারটি বিষয়ে জনআকাক্সক্ষা পূরণ হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জনআকাক্সক্ষা সামনে রেখেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।






