জোহর রাজ্য নির্বাচনে বারিসান ন্যাশনালের নিরঙ্কুশ জয়
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৬, ৯:৫৬:১৬ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের ১৬তম রাজ্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে ক্ষমতাসীন জোট বারিসান ন্যাশনাল (বিএন)। ৫৬টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাজ্য সরকার গঠন করতে যাচ্ছে জোটটি। এ বিজয়ের মাধ্যমে তারা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পাশাপাশি আগের নির্বাচনের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করলে জোহর বাহরুর জালান ইয়াহইয়া আওয়ালে অবস্থিত বিএনর প্রধান নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। ‘হিদুপ বিএন’ (বিএন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সান-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ৪০টি আসন পাওয়া বিএন এবার আরও ৮টি আসন বাড়িয়ে মোট ৪৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ) পেয়েছে মাত্র ৮টি আসন।
বিজয়ী আসনগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) ৩৬টি, মালয়েশিয়ান চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) ৮টি এবং মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (এমআইসি) ৪টি আসনে জয় পেয়েছে। পিএইচের শরিক দলগুলোর মধ্যে ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টি (ডিএপি) ৬টি, পিকেআর একটি এবং আমানাহ একটি আসনে জয়লাভ করেছে।
অন্যদিকে, পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন), পার্টি বারসামা মালয়েশিয়া, পার্টি সোশিয়ালিস মালয়েশিয়া (পিএসএম), মুডা, পার্টি ওরাং আসলি মালয়েশিয়া এবং ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো আসনেই জয় পায়নি।
ফলাফল ঘোষণার পর জোহর বিএন চেয়ারম্যান ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজি বলেন, জনগণের দেওয়া এই বিপুল সমর্থন অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিজয় জনগণের সেবা ও ‘বাংসা জোহর’-এর উন্নয়নে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করেছে।
এমআইসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা চারটি আসনের সবকটিতেই জয় পেয়েছে। একইভাবে এমসিএ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আটটি আসনের সবগুলোতেই বিজয় অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিএপি স্কুদাই, মেংকিবোল, বেনতায়ান, সেনাই, পেংগারাম ও স্টুলাং আসনে জয় পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৭টি আসনের মধ্যে ১১টিতে পরাজিত হয়েছে। এর মধ্যে জোহর জয়া, তাংকাক, জেমেনতাহ ও পারলিংয়ের মতো পূর্বে দখলে থাকা কয়েকটি আসন বিএনর শরিক এমসিএ ও এমআইসির কাছে হারিয়েছে দলটি। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনটি আসন পাওয়া পেরিকাতান ন্যাশনাল এবার একটি আসনও ধরে রাখতে পারেনি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ড. সাহরুদ্দিন জামাল বুকিত কেপং আসনে পরাজিত হন। এ ছাড়া এন্ডাউ ও মাহারানি আসনও হারিয়েছে জোটটি।
বিরোধী জোট পাকাতান হারাপানের নির্বাচন পরিচালক দাতুক সেরি আমিরুদ্দিন শারি বলেন, ফলাফল যাই হোক, জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।
এদিকে জোহর পাস এক বিবৃতিতে নির্বাচনের ফলাফলকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে।
মাচাপ আসনে মুখ্যমন্ত্রী ওন হাফিজ গাজি ১৫ হাজার ৩৭৫ ভোটের ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. মাসজলি মালিক পুতেরি ওয়াংসা আসনে জয়ী হয়েছেন এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আধাম বাবা পাসির রাজা আসন পুনরুদ্ধার করেছেন। পুনরায় মনোনয়ন পাওয়া রাজ্য নির্বাহী পরিষদের (এক্সকো) নয়জন সদস্যই নিজেদের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ১৭২ জন প্রার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে বিএন ও পিএইচের ৫৬ জন করে, পিএনের ৩৩ জন, বারসামার ১৫ জন, মুডার ৪ জন, ৬ জন স্বতন্ত্র এবং পিএসএম ও আসলির একজন করে প্রার্থী ছিলেন। প্রায় ২৭ লাখ নিবন্ধিত ভোটার এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।






