জুড়ীতে সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মা-মেয়ে আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৩:৫১ অপরাহ্ন

জুড়ী প্রতিনিধি ঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবুল কালাম বুলুচাঁন কে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তার সমন্ধি মৃত বশির আহমদ এর স্ত্রী আসমা বেগম (৩৮) ও বশির আহমদ এর মেয়ে লিমা আক্তার (১৮) কে গ্রেফতার করেছে জুড়ী থানা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আসমা জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের কচুরগুল নালাপুঞ্জি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় গলাকাটা একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা লাশটি উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলী ইন্তাই এর পুত্র আবুল কালাম বুলুচাঁন (৪০) এর বলে সনাক্ত করেন। তিনি জুড়ী নিউমার্কেট সিএনজি স্ট্যান্ডের চালক ছিলেন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় আবুল কালাম বুলুচাঁন এর ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নামে। বুলুচাঁন এর চালিত সিএনজি অটোরিকশার মালিক আসমা বেগম ও তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা বেগম বুলুচাঁনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আসমার ভাষ্যমতে পুলিশ জানায়- ননদের স্বামী বুলুচাঁন আসমার সিএনজি গাড়ী চালাতো। প্রায়ই তার বাড়িতে বাজার খরচ নিয়ে যেতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক শুরু হয়। ঘটনার রাতে বুলুচাঁন তাদের বাড়িতে রাত্রি যাপন করেন। বুলুচাঁন আসমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আসমা বিয়েতে রাজী হয়নি। যেহেতু বাড়িতে তার শ^াশুড়ি, দুই মেয়ে ও এক ছেলে এবং প্রতিবন্ধী এক দেবর রয়েছেন, এদের দেখাশোনা করতে হয়। সেহেতু তিনি বিয়ে না করে এভাবেই চলার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুলুচাঁন বিয়েতে রাজী না হলে তার মেয়ের ক্ষতি করবেন বলে জানান। একথায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসমা দা দিয়ে বুলুচাঁনকে কয়েকটি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে মা-মেয়ে মিলে কলা গাছের সাথে বেধে বাড়ির নিকট নদীতে তার লাশ ভাসিয়ে দেন।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, আছমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা ও বুলুচাঁন এর মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আসমা ও লিমাকে আসামী করা হয়েছে। এবিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। আরো কেহ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।





