যুক্তরাজ্যে শিশুকে বাঁচাতে সাগরে সিলেটি মা-মেয়েসহ ৩ জনের সলিল সমাধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১১:৩৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : যুক্তরাজ্যের এসেক্সের কলচেস্টারের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের পানিতে ডুবে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটি এক মা ও তার ১৫ বছর বয়সী কন্যাসহ ৩ জন। পরিবারের একটি ছোট শিশুকে সাগরের উত্তাল ঢেউ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে শিশুটিসহ তারা প্রাণ হারান। এঘটনায় যুক্তরাজ্যসহ সিলেটের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন- যুক্তরাজ্য যুবদলের সহ-সভাপতি ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা রহমান (৪২), তাঁর ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কন্যা সামিয়া রহমান এবং সেলিনা রহমানের ভাগ্নে ৯ বছর বয়সী শিশু মূসা আহমেদ। সেলিনা রহমান যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সুনামগঞ্জের ছাতকের প্রবীণ নেতা মুজিবুর রহমানের কন্যা। তাঁর স্বামী ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা প্রয়াত শেখ মখন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা লন্ডনের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্রসৈকতে একসঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপভোগ করতে যান। আনন্দঘন মুহূর্ত পালনের সময় হঠাৎ সাগরে তীব্র জোয়ারের স্রোত আসে। এসময় হঠাৎ প্রবল স্রোতের টানে পরিবারের শিশু মূসা আহমেদ সমুদ্রে তলিয়ে যেতে শুরু করেন। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন সেলিনা রহমান ও তার মেয়ে সামিয়া রহমান। কিন্তু উত্তাল জোয়ারের তীব্র স্রোতে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত স্বজনরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে কাউকে কার্যকরভাবে সাহায্য করার সুযোগ মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই এসেক্স পুলিশ, এইচএম কোস্টগার্ড ও রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো কাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিভিউ অ্যাভিনিউ ও সংলগ্ন সৈকত এলাকা সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এইচএম কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টারের পাশাপাশি আরএনএলআইর ওয়েস্ট মার্সি ইনশোর লাইফবোট এবং ক্লাক্টন-অন-সি স্টেশনের দুটি লাইফবোট উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
মা ও মেয়ের আত্মত্যাগের এই মর্মস্পর্শী ঘটনা যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সিলেটজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।






