অক্টোবরে আইএমএফর সঙ্গে ˆবঠকের আগে আসছে না পে স্কেলের ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জুলাই ২০২৬, ৮:১৪:৪৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করতে পারে সরকার| তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে ঋণদাতা সংস্থাটির সম্মতির ওপর| রাজ¯^ ঘাটতি ও দুর্বল রাজ¯^ আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ ইতোমধ্যে সরকারকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে| এ সুপারিশের পর সরকারও বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে|
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ˆবঠক করে রাজ¯^ আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন| ˆবঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন| প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন| বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি, দেশের গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়|
কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে| কর্মকর্তাদের মতে, অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ১২ থেকে ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা করে| সেখানে আইএমএফের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমান রাজ¯^ ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়|
ঋণদাতা সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ভর্তুকিসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু রাজ¯^ প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে| ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে এ মুহূর্তে নতুন পে স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক ঝুঁকি ˆতরি হতে পারে বলে আইএমএফ মনে করে|
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে নবম পে স্কেলের একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে| কিছু সংশোধনসহ প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে|
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার এখন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভাবছে| আগামী অক্টোবরে আইএমএফের ˆবঠকের আগেই এ কৌশল চূড়ান্ত করা হতে পারে| অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ শুরু হয়| সে সময় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করা হয়| চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়| প্রতিবেদনে বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়|
কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়| একই সঙ্গে ˆবশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়| কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে|
অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন| এ জন্য সংশোধিত বাজেটের তুলনায় জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে|






