তিন লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে বিএনপি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০:৩০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : সরকার গঠনের ৭ মাসের মাথায় আবারও রাজপথের কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে বিএনপি। রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার মধ্যেও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকানো, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচির মোকাবিলা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে সক্রিয় করাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য। এলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে ধারাবাহিক বিক্ষোভ-মিছিল করছে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।
দলীয় সূত্র বলছে, মাঠে ফেরার পেছনে বিএনপির তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, সরকারে থাকলেও রাজপথে দলের দৃশ্যমান উপস্থিতি ধরে রাখা। দ্বিতীয়ত, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা। তৃতীয়ত, অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণসহ নাশকতার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর যুবদল, ২৩ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল বিক্ষোভ-মিছিল করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও তিন অঙ্গসংগঠনের যৌথ কর্মসূচি রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকগণ জানিয়েছেন, সরকারে যাওয়ার পর দলের একটি অংশ প্রশাসনিক ও সরকারি কাজে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ায় মাঠের সাংগঠনিক তৎপরতায় কিছুটা ভাটা পড়ে। সেই অবস্থার পরিবর্তনেই নেতাকর্মীদের আবার রাজপথে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিএনপির দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রচারণা ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় দলটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু সরকার নয়, দল হিসেবেও মাঠে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিএনপির নেতারা। সাম্প্রতিক যৌথসভা থেকে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি পালনের জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এসব মোকাবিলায় বিএনপি মাঠে থাকবে। তার ভাষায়, ‘রাজপথ বা জনগণকে আমরা কারও কাছে ইজারা দিইনি।’
পুরনো মাঠকর্মীরাই ভরসা:
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ আবারও সক্রিয় হয়েছেন। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের অনেকে এখন সরকার ও দলের বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন। আবার অনেকে এখনো কোনো দায়িত্ব পাননি। সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দায়িত্ব না পাওয়া এসব পুরনো মাঠকর্মীর উপস্থিতিও চোখে পড়ছে। দলীয় যৌথসভা, মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে।
দলের নেতাদের মতে, এসব কর্মসূচি বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ার একটি চিত্র তুলে ধরছে। তবে এর সঙ্গে আরেকটি সাংগঠনিক হিসাবও রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন সামনে রেখে পদপ্রত্যাশীরাও মাঠে নিজেদের সক্রিয়তা জানান দিচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করছেন এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
বিএনপির তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন- যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনে রাজপথে থাকা এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত করা হচ্ছে। সামনে সংগঠন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। ফলে পুরনো আন্দোলনকর্মীদের পাশাপাশি নতুন করে সক্রিয় হওয়া নেতাদেরও নজরে রাখা হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাম্প্রতিক প্রায় সব কর্মসূচিতেই সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। ২১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কর্মসূচিতে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি ক্ষমতার শক্তিতে নয়, জনগণের শক্তিতে রাজনীতি করতে চায়। ২২ সেপ্টেম্বর ফার্মগেটে কৃষিবিদদের কর্মসূচিতেও তার নেতৃত্বে মিছিল হয়। পরদিন নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশেও তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
রিজভী বলেন, অনেকে মনে করতে পারেন সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততায় রাজপথে বিএনপির উপস্থিতি নেই। সেই ধারণা যাতে তৈরি না হয়, সে জন্যই বিএনপি রাজপথে রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের কমে যাওয়া সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতেও দল সক্রিয় হয়েছে বলে জানান তিনি। সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলোকে তিনি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন।
দেশজুড়ে কর্মসূচি:
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়েও কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কর্মসূচি করছে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচির ধরন নির্ধারণে স্থানীয় পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির একাধিন নেতা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। তারা চান মানুষ স্বস্তি ও নিরাপদে বসবাস করুক। তার দাবি, সম্প্রতি কিছু পক্ষ আবারও রাজপথে সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও করছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সরকার ও সরকারি দলের দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই তারা রাজপথে রয়েছেন।





