গণটিকার পরও থামছে না হামে মৃত্যু!
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০২:২৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : গণটিকা দেওয়ার প্রায় তিন মাস পরও দেশে প্রতিদিন হামে এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির পরও এভাবে হাম ছড়িয়ে পড়া এবং মৃত্যু অব্যাহত থাকা অস্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশে এখন সেটিই ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চারটি বড় ভুলের কারণে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়েছে। এগুলো হলো ২০২৪ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না করা, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়মিত টিকাদানে গাফিলতি, চলতি বছরে ব্যাপক সংক্রমণের পরও হামকে জরুরী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা না করে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সর্বশেষ গণটিকা কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যাওয়া।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ছিল। নিয়মিত টিকাদান ও জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ কর্মসূচির কারণে হামসহ বিভিন্ন রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের ঘাটতিকেই বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজির আহমেদ বলেন, ২০২০ সালের হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পর ২০২৪ সালে আবার এ ধরনের কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এটি ছিল বড় ভুল। এরপর ২০২৫ সালে বছরজুড়ে টিকাদানে গাফিলতি দেখা গেছে। চলতি বছর গণটিকাদান শুরু হলে দেখা গেল, প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর বাইরে রয়ে গেছে। এটিও বড় ধরনের ভুল।
বে-নজির আহমেদ বলেন, এর ফলে এখন পাঁচ বছরের বেশি বয়সী এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি বেশি বয়সী মানুষের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে ৮৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪ জন। অন্তত গত দুই দশকে বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যু এবং এত বেশি রোগীর সংখ্যা দেখা যায়নি।
এছাড়া সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম রোগে আক্রান্ত বা হামের লক্ষ্মণ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০১ জন। আর হাম সন্দেহজনক ও নিশ্চিত দুই ধরনের মৃত্যু মিলিয়ে সিলেটে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩০ জন।






