৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আবহ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৪:২০:০৫ অপরাহ্ন
মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিলো বিএনপি
জামায়াত জোটের কর্নেল অলি’র পক্ষে ২ মনোনয়ন দাখিল
জালালাবাদ রিপোর্ট : ৩৫ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯১ সালের পর একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের আবহ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
এদিকে, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নিল বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, বিএনপির মহাসচিব পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল।
এরপর বেলা আড়াইটার দিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে সই করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান। সমর্থক হিসেবে সই করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ সংসদ সদস্যদের নেই। সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ারও বিধান আছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া তাই এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সাধারণত এ ধরনের নির্বাচনে বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেয় না। তবে এবার বিরোধী দল জামায়াত অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী করেছে। বেলা ১১টা ও বেলা ৩টার দিকে কর্নেল অলির পক্ষে ২টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অলির পক্ষে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা: শফিকুর রহমান এবং সমর্থক এনসিপির আবদুল্লাহ আল আমিন।
শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝের সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ছিলো। এরপর প্রার্থিতা যাচাইবাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।






