জুড়ীতে আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে পরিবেশকর্মী খোরশেদের সাফল্য
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৯:১৩ অপরাহ্ন

আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাঠিটিলা এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম। শখের বশে শুরু করা তরমুজ চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে চাষের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হারভেস্ট পদ্ধতিতে চাষ করা তাঁর ক্ষেতে এবার ছয় জাতের তরমুজের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিওনা, সান গোল্ড, রবি বাহির, আংশিক ডোরাকাটা, সাম্মাম, হানি ডিউ ও ল্যানফে জাতের তরমুজ।
ক্ষেতজুড়ে সারি সারি হলুদ, সবুজসহ বাহারি রঙের তরমুজ এবং ফলনে ভরে ওঠা গাছ দেখতে প্রতিদিনই খোরশেদ আলমের ক্ষেতে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও দর্শনার্থীরা। উদ্যোক্তার দাবি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রচলিত চাষাবাদের পাশাপাশি নতুন জাতের তরমুজ চাষেও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
খোরশেদ আলম বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ফলন দেখে আশাবাদী হয়েছি। এখন পর্যন্ত নিজের ফলানো তরমুজ বিক্রি করিনি। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের উপহার হিসেবে দিচ্ছি। সবাই প্রশংসা করছেন এবং বৃহৎ পরিসরে চাষের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করতে চাই।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, জুড়ী এলাকার মাটি ও আবহাওয়া বিবেচনায় আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তারা কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ও নতুন জাতের ফসল নিয়ে এগিয়ে এলে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে খোরশেদ আলম আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। বিশেষ করে তিনি হলুদ তরমুজ চাষ করছেন, যার পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং বাজারে এর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে খোরশেদ আলমকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তাঁর মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের সফলতা দেখে অন্যরাও আধুনিক কৃষিতে আগ্রহী হবেন। এতে একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে জুড়ীর কৃষিতে উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।






