কমলগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফল নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচনের ফল প্রকাশ ঘিরে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলাফলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বঞ্চিত প্রার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই প্রার্থীদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস পর গত ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার, সদস্য-সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউসুফ মিঞা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রকিবুল হকের যৌথ স্বাক্ষরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিকেও সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য সংগ্রহকারী পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শমশেরনগর ইউনিয়নের দেওছড়া চা বাগানের বাসিন্দা অমৃত রবিদাস বলেন, ‘এটা স্পষ্টত মেধাবী পরীক্ষার্থীর সঙ্গে তামাশা। আমি এর আগে জনশুমারি, গৃহগণনা ও অর্থনৈতিক শুমারিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী পদে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমাকে ভাইভা বোর্ড থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলে আমাকে কেন অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে? আমরা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে ফলাফল পুনর্বিবেচনা চাই।’
অন্যান্য ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের অভিযোগ, মেধা ও দক্ষতার তোয়াক্কা না করে পূর্বের কোনো জরিপে অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ি চা বাগানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই পুরো শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিভিত্তিক কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না।






