মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তা, শ্রমিক, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে দায়িত্বশীল ব্যবসা জোট (রেসপনসিবল বিজনেস অ্যালায়েন্সÑআরবিএ) আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন: সরবরাহ ব্যবস্থায় মানবাধিকার যাচাইয়ের উত্তম চর্চা বিনিময়’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার মোছাম্মৎ শাহানারা মনিকা।
আলোচনায় তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া সংকটের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে নিয়োগের সময় সৃষ্ট ঋণের বোঝা, বেতন-ভাতা না পাওয়া, অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পরও বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শাহানারা মনিকা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শুধু নিয়োগকালীন পর্যায়ে নজর দিলেই হবে না; পুরো অভিবাসন চক্রজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকার, কল্যাণ সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় জরুরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন শ্রমিক, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তি, প্রয়োজনীয় প্রতিকার, কল্যাণ সহায়তা এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বর্তমান নিয়োগচক্র শুরুর পর থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৩০টিরও বেশি অভিযোগ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় সমাধান করা হয়েছে।
আলোচনায় অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় মানবাধিকার যাচাই বা ‘হিউম্যান রাইটস ডিউ ডিলিজেন্স’-এর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। শ্রমিক নিয়োগের শুরু থেকে কর্মসংস্থান, বেতন-ভাতা, বৈধ অভিবাসন নথি, কর্মপরিবেশ এবং দেশে ফেরার পরবর্তী সময় পর্যন্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
পেনাংয়ের এ আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।






