সিলেট হবে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৫:১৮ অপরাহ্ন
দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’র পরিকল্পনা
স্টাফ রিপোর্টার : প্লাস্টিক বর্জ্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন পরিবেশবান্ধব দিগন্তে পা রাখতে যাচ্ছে সিলেট। সিলেটে স্থাপিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’। এটি স্থাপিত হলে সিলেট হবে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর। আর এই মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাথে হাত মেলাচ্ছে শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
সোমবার নগরীর একটি হোটেলে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পল্যুশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সোমবার নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। সিলেটকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও সিসিক এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্ব, আধুনিক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ের মাধ্যমে সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সিটি কর্পোরেশন।
সেমিনারের শুরুতে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা ‘জিওসাইকেল’-এর কার্যক্রম নিয়ে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়। পরে সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তুলে ধরেন হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।
সেমিনারে নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে অবস্থিত মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এ প্ল্যান্টে নগরীর বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদান পৃথক করা হচ্ছে। পৃথক করা প্লাস্টিক নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকস্থ জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হচ্ছে।
সেমিনারে জানানো হয়, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো হয়। এতে বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
নগরের পরিচালনগত কৌশল তুলে ধরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার যোগ করে বলেন, কার্যকর পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের ক্রমবর্ধমান নগরায়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিলেটকে দেশের মডেল হিসেবে স্থাপন করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি স্থাপন এর মধ্যে অন্যতম। সামনের দিনগুলোতে এই ফ্যাসিলিটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে সিলেট নগরীতে প্লাস্টিক দুষণমুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।
সার্কুলার ইকোনমি সমাধানে বেসরকারি খাতের ভূমিকা তুলে ধরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, লাফার্জহোলসিম এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা জিওসাইকেলের মাধ্যমে দেশজুড়ে টেকসই উন্নয়ন বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে এই অংশীদারিত্ব আমাদের নিরাপদ কো-প্রসেসিং সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, যা প্লাস্টিক বর্জ্যকে ল্যান্ডফিল ও নদীতে পড়া থেকে রক্ষা করে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সুন্দর আগামী গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সামা হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেটের উপমহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড. মো. সালাতুল ইসলাম মজুমদার।
সেমিনারে সিসিক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





