জাপানে রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১৯:০৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : জাপানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকের বিশাল বাজার ধরতে এবার সুদূরপ্রসারী কৌশল নিয়েছেন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পমালিক ও রপ্তানিকারকরা। দীর্ঘ এক বছর ধরে দুই দেশের নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ চালু করেছে ‘জাপান ডেস্ক’।
গত বুধবার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ডেস্কের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই ডেস্কের উদ্বোধন করেন। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ পোশাক শিল্পমালিকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে এই ডেস্ক ‘ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া জাপানে রপ্তানি বাড়াতে নতুন করে ১০০ কারখানাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগের ১৭২টি কারখানার পাশপাশি এই ১০০টি কারখানাও জাপানে পোশাক রপ্তানি করবে। এই ২৭২টি কারখানা জাপানের বাজারের জন্য ‘ডেডিকেটেড বা সংরক্ষিত’ থাকবে। এই কারখানাগুলোর বাইরে অন্য কোনো কারখানা জাপানে পোশাক রপ্তানি করতে পারবে না।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আমদানি সহজ ও মসৃণ করতে জাপানের ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এই পরিকল্পনায়। জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জাপানের সঙ্গে কৌশলগত বাজার উন্নয়ন নামে একটি কমিটি গঠন করা হয় এক বছর আগে। ওই কমিটি দুই দেশের নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে বৈঠক করেছে। দুই দেশের বাজার সম্প্রসারণে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধানের কৌশল নিয়ে একমত হয়েছে।
এর অংশ হিসেবেই সব মিলিয়ে ২৭২টি কারখানাকে নির্বাচিত করা হয়। এই কারখানাগুলো জাপানি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের (যেমন- ইউনিক্লো, মুজি, জিইউ, শিমামুরা) চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে পোশাক তৈরি করবে।
এই কারখানাগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য দেশেও পোশাক রপ্তানি করতে পারবে। তবে জাপানের বাজারের জন্য তৈরি পোশাকের গুণগতমানসহ আলাদা কিছু নির্দেশনা থাকবে, যেগুলো পূরণ করার পরই কেবল জাপানে পোশাক রপ্তানি করা যাবে। আর এসব কাজ তদারকি করবে ‘জাপান ডেস্ক’।
জাপানে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএর উদ্যোগে এক বছর আগে ‘কৌশলগত বাজার উন্নয়ন’ নামে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির সমন্বয়কারী ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক ও বাংলা পোশাক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাপানে আমাদের পোশাক রপ্তানি একই জায়গায় আটকে আছে। কোনো বছর বাড়লেও অল্প কিছু বাড়ছে। বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্যের ঘোলাটে পরিস্থিতিতে আমরা জাপানের বাজারে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে চাই। সেজন্য গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করে এখন একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছি। এই পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমরা বিজিএমইএতে ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করেছি।
মোহাম্মদ সোহেল বলেন, এখানে একটা বিষয় আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দেশে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএতে আলাদা ‘ডেস্ক’ খোলা হয়েছে। জাপান কিন্তু অন্য দেশ থেকে আলাদা। জাপানের ক্রেতারা পোশাাকের গুণগতমান বা কোয়ালিটিকে খুবই গুরুত্ব দেয়। প্রতিটি পোশাক দেখে দেখে নেয়। তাদের কাছে স্ট্যান্ডার্ডই বড়; দাম বেশি হলেও আপত্তি নেই।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর কথা তুলে ধরে সোহেল বলেন, জাপানে তৈরি পোশাকের বাজার ২৫ বিলিয়ন ডলারের। এই বাজারে আমরা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের মত রপ্তানি করি। এটা আমরা ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চাই; এটাই আমাদের টার্গেট। তবে কবে ওই লক্ষ্যে পৌঁছাব, তা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলছি না।
আমরা বলতে চাই কেবল শুরু করলাম। আস্তে আস্তেই এগোতে চাই। তবে এটা বলতে পারি, দুদেশের মধ্যস্থতায় নতুন যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, সে উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা যদি জাপানের ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করতে পারি, তাহলে ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ছুঁতে খুব বেশিদিন লাগবে বলে মনে হয় না।
জাপানে রপ্তানি বাড়াতে নতুন আর কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আগের ১৭২টি কারখানার সঙ্গে যে ১০০ কারখানাকে জাপানে পোশাক রপ্তানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাদের ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হয়েছে। সবাইকে বলা হয়েছে, আমরা জাপানের মার্কেট ভালোভাবে ধরতে চাই।





