হৃদরোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে : সিসিক প্রশাসক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২৩:৫২ অপরাহ্ন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, হৃদরোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে। দেশে বর্তমানে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে হৃদরোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট আয়োজিত আলোচনা সভা ও গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও মানসিক চাপের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও সচেতন জীবনযাপন জরুরি।
সিসিক প্রশাসক ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট প্রতিষ্ঠায় জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠানটি সিলেটসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের হৃদরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জন্য ভূমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
এর আগে হৃদরোগ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্করের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুগ্ম সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে জীবন রক্ষায় জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি সিপিআর বিষয়ে বক্তব্য দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফারজানা তাজিন। বাইপাস সার্জারি (সিএবিজি) বিষয়ে বক্তব্য দেন কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান ইফতেখার রাজা চৌধুরী। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৪৯ জন হৃদরোগীর বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্কর বলেন, হৃদরোগ এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি জীবনযাপন ও অসচেতনতার কারণেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। ধূমপানসহ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিহার এবং হৃদরোগের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬’-এর প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আলতাফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ মতিন, কার্যকরী কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সাংবাদিকও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী এবং লিভার ফাউন্ডেশন সিলেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকতুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের পাবলিসিটি সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সোশ্যাল সেক্রেটারি আব্দুল মালিক জাকা, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন সেক্রেটারি এস আই আজাদ আলী, হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আব্দুল মুনিম চৌধুরী, সহকারী পরিচালক ডা. আলা উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর অংশ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত হৃদরোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়। এতে ৫৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সিলেট ইউনিটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করে। বিজ্ঞপ্তি





