বড়লেখায় ২১ কমিউনিটি ক্লিনিকের ৩টির বেহাল দশা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪১:১৩ অপরাহ্ন
* ২ বছরেও খোলেনি একটি, চাহিদামতো মিলছে না ওষুধ

আব্দুর রব, বড়লেখা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রান্তিক এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয়েছে ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এর মধ্যে অন্তত তিনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দেয়াল, মেঝে ও ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোথাও ভবনের অংশ দেবে গেছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন বনজঙ্গল, আগাছা, ঘাস ও শৈবালে ঢেকে যাওয়ায় দূর থেকে দেখলে পরিত্যক্ত স্থাপনার মতো মনে হয়। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি)।
উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় দুই বছর ধরে তালা ঝুলছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ সেখানে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে চালু থাকা বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকেও চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ওষুধ সরবরাহ হওয়ায় সিএইচসিপিদের স্থানীয় রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব-হাতলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ২০০১ সালে নির্মিত ভবনের পূর্বদিকের একটি অংশ দেবে গেছে। মূল ভবন, বারান্দা ও ভেতরের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা উঠে গেছে এবং ছাদও ধসে পড়ার উপক্রম।
দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে কয়েক বছর ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন সিএইচসিপি সাজু দেব। তিনি বলেন, প্রতিদিনই দেয়াল ধসে পড়ার আশঙ্কায় ভয়ে থাকতে হয়। তিনি জানান, বিশাল এলাকার একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক হওয়ায় এখানে ওষুধের চাহিদা বেশি। কিন্তু তিন থেকে পাঁচ মাস পরপর ২২ ধরনের ওষুধ মিলিয়ে মাত্র এক কার্টন সরবরাহ করা হয়। এতে দেড় মাসও ওষুধ চালানো সম্ভব হয় না। বাকি সময়ে রোগীদের ওষুধ দিতে না পারায় তাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
একই ইউনিয়নের হরিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালে ক্লিনিকটি নির্মাণ করা হলেও প্রায় দুই বছর ধরে এটি খোলা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি কোনো কাজে আসছে না এবং এলাকাবাসীও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দাসেরবাজার ইউনিয়নের অহিরকুঞ্জি কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থাও নাজুক। ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা কয়েক বছর আগেই খসে পড়েছে। দরজা-জানালাও ভেঙে গেছে। ভবনের দেয়াল ও ছাদ আগাছা, ঘাস ও শৈবালে ঢেকে গেছে।
ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি সঞ্চিতা রানী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
ওষুধ সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২২ ধরনের তিন কার্টন ওষুধ দেওয়া হতো। কিন্তু গত দুই টার্ম ধরে মাত্র এক কার্টন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন বিশ্বাস, মায়ারানী বিশ্বাস, সুলতা রানী বিশ্বাস, মিন্টু বিশ্বাস, অনিবাস বিশ্বাস ও কল্পনা বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তারা প্রায়ই চিকিৎসা নিতে এসে চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ পান না।
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তার জানান, হরিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় সাময়িক বরখাস্ত থাকায় ক্লিনিকটি নিয়মিত খোলা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, অধিদপ্তর থেকে চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অহিরকুঞ্জি, পূর্ব-হাতলিয়া ও সুজাউল কমিউনিটি ক্লিনিকের পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অনেক আগেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।






