৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েও মেলেনি প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪৬:১৭ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট: তীব্র গ্যাস সংকটে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় অংশের সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে তেলভিত্তিক, বিশেষ করে ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে সরকার। এসব কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অনুকূলে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার পরও প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। অর্থ পাওয়ার পরও অধিকাংশ কেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানি করতে না পারায় সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপুল অর্থ দেওয়ার পরও এর সুফল মানুষ কতটা পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগেই।
চলতি গ্রীষ্মে সরকারি-বেসরকারি তরল জ্বালানিভিত্তিক (এইচএফও ও এইচএসডি) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু জ্বালানি তেল আমদানির ধীরগতি ও সরবরাহ ঘাটতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য সরকার পিডিবির অনুকূলে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এই অর্থ আগামী বছরের মার্চ থেকে একই বছরের জুন পর্যন্ত চার মাসে বিদ্যুৎ খাতে অর্থ বিভাগ থেকে দেওয়া ভর্তুকির সঙ্গে সমন্বয় করার কথা। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও কাক্সিক্ষত উৎপাদন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, জ্বালানি কেনা ও আমদানির ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবহার কতটা কার্যকর হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেল আমদানি প্রক্রিয়া নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন অধিকাংশ ক্রেতা সিঙ্গাপুরভিত্তিক আমদানির চেষ্টা করছে। ফলে সময়মতো জাহাজ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেলের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা পাঠানো হয়। বিপিসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে এর মধ্যে ১ লাখ ৬৩ হাজার টন তেল সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ বিপিসির কাছে পাঠানো চাহিদার তুলনায় সরবরাহের প্রতিশ্রুতিতে ঘাটতি রয়েছে ৪১ হাজার ১০০ টন। এর বাইরে সরকারি কোম্পানিগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট ডিরেটেড ক্যাপাসিটি ২৮ হাজার ৫২৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ডিরেটেড ক্যাপাসিটি ৫ হাজার ৩৩১ মেগাওয়াট। ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা আরও ৭৬৮ মেগাওয়াট। সেপ্টেম্বরের অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবিলায় তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ডে-পিক সময়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৮০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পিকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও আমদানির ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে না পারায় পিডিবির পক্ষ থেকে কিছু কোম্পানির ওপর লিকুইডেটেড ড্যামেজেস (এলডি) আরোপের বিষয়টিও সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ সংশ্লিষ্ট এক সভায় আলোচিত হয়। বলা হয়েছে, এলডি আরোপের কারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো যথাসময়ে জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারেনিÑ এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।





