মৌলভীবাজারে ১৩৪ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩৭:০৪ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি প্রত্যাহার হওয়া সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের সময়ে অল্পদিনের ব্যবধানে ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স অনুমোদন ও হালনাগাদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে জেলার ৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরে দুটি প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলমান থাকায় স্বাস্থ্যসেবার মান ও তদারকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের অনুপস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও নানা বিতর্কের অভিযোগ ওঠে। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে তাৎক্ষণিক মুঠোফোনে কথা বলে তাঁকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ডা. মো. জাকির হোসেনকে। এরপর থেকেই সাবেক সিভিল সার্জনের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ডা. মামুনুর রহমানের সময়ে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জেলার ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১১টি হাসপাতাল ও ৩৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মোট ৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে হালনাগাদ লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ প্রায় চার মাসের ব্যবধানে ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদিত দেখানো হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনহীন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সোনার বাংলা কিডনি ফাউন্ডেশন, জুগিঢর এলাকার সূর্যের আলো হাসপাতাল, সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আরহাম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিউর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও শেরপুর ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এদিকে, অল্প সময়ের ব্যবধানে জেলার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিপুলসংখ্যক লাইসেন্স হালনাগাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহলের অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
তাঁদের প্রশ্ন, এত অল্প সময়ে কীভাবে এতগুলো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স হালনাগাদ করা হলো? প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, চিকিৎসক, জনবল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান পর্যালোচনা না করে সিভিল সার্জন এভাবে অনুমোদন দিয়ে থাকলে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ, সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই নিশ্চিত করা জরুরি। অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হালনাগাদের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হলে এ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম ধরলে সমস্যা, আবার না ধরলেও সমস্যা। আপনারা খবর নিয়ে দেখেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এখন সরকারি দলের পরিচয় দেন। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি করলে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। তিনি আরও বলেন, শতভাগ নিয়মনীতি মেনে এসব প্রতিষ্ঠান যাচাই করলে একটিও লাইসেন্স পাবে না। প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা বলেন, আমি টাকা খেয়েছি, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জিজ্ঞেস করে বের করেন, আমি কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।’





