সিলামে রাসেল হত্যা মামলার ২ আসামি সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৭:২৭ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে রাসেল আহমদ শাহ (২৩) হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সুনামগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৯। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের ৪ দিনের মাথায় প্রথমবারের মতো ২ আসামি গ্রেপ্তার হলো।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসএমপির মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূইয়া।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩) ও আব্দুস সামাদ (৩৩)।
এর আগে গত রোববার (৪ অক্টোবর) নিহত রাসেলের মা মোছা. রাজনা বেগম বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। বুধবার পর্যন্ত মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ওষুধ কিনতে সিলাম চকবাজারে গেলে রাসেলকে আসামিরা ঘিরে ধরে মারধর করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে বাজারের পরিত্যক্ত মাছ হাটায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সিলামে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লিশীপ, মাজার ও মসজিদ পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় শাহ গোষ্ঠী ও আবেদ রাজার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত ২১ আগস্ট দুইপক্ষের সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার তৎকালিন ওসি মো. মনির হোসেনসহ ৮ পুলিশ সদস্য এবং উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। ওই দুইপক্ষের দুটি এবং পুলিশের ১টি, মোট ৩টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় শালিসে ঐ মামলায় বিরোধ মীমাংসার অঙ্গীকার করে আসামিরা জামিন নিলেও পরে তা ভঙ্গ করে। প্রতিপক্ষের লোকজনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাসেলকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
মোগলাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূইয়া জানান, এসআরবি-৯ এর পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে থানায় হস্তান্তরের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






