তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মঈন খান
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭:৩২ অপরাহ্ন

তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া দেশে কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এমপি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকোভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’ আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণকে ছোটখাটো সেবা নিতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে রাজধানীতে ছুটে আসতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই মানুষ যেন নিজ নিজ এলাকায় থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো উদ্যোগের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো বাস্তবায়ন। এলজিসিআরআরপি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
মঈন খান বলেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও শেষ করাই যথেষ্ট নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ভবিষ্যৎ উদ্যোগে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সুফলভোগীদের মধ্যে প্রকল্পটির মালিকানা ও অংশগ্রহণের অনুভূতি তৈরি করা জরুরি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ক্ষমতাবান করতে হবে। জন্মনিবন্ধনের মতো সাধারণ সেবা পেতেও যদি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে মন্ত্রণালয়ে আসতে হয়, তাহলে তা শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরীর সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতিসহ বিভিন্ন নাগরিকসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা সরেজমিনে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়নকে টেকসই করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ থাকলে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহামদ, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের প্রধান জেন পেসমি এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন।





