চরম সংকটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৭:২৭ অপরাহ্ন

জসীম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ : ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চরম সংকটে পড়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। শয্যা না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, খাবারের মান, ওষুধ সরবরাহ এবং বাথরুমের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামের সুজেদা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চার জ্বর ও বমি নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। হাসপাতালে ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হয়। খাবারের মানও ভালো না। বেড পাইনি, তিন দিন ধরে মেঝেতে আছি।’
দিরাই উপজেলার ফয়সল জানান, তাঁর সন্তান সর্দি-কাশি নিয়ে আট দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে আরেকটি শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভাতের কষ্ট, ওষুধ নেই। বাথরুমে দুর্গন্ধ। সিরিয়াল ধরে বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। তিন বেলার খাবারের মধ্যে এক বেলা ভাত দেওয়া হয়, সকালের নাশতাও দেওয়া হয় না। এ অবস্থায় হাসপাতাল ছেড়ে অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবছি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, তাঁর ভাগনি হামে আক্রান্ত। কেবিন না পেয়ে বারান্দায় রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমান জনবল দিয়ে এত রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ, শয্যা সংকট ও সেবার মান নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।






