৫ বছরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ কমেছে ১৬.৫৭%
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৬:৩৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : অতিরিক্ত মাছ আহরণ, মাছের মজুতসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বল নজরদারির কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছ আহরণ ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মাছ আহরণের এই পতন দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে এনেছে। পাশাপাশি পরিবেশগত পরিবর্তন ও দূষণের কারণে সামুদ্রিক মাছের মজুতের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও প্রথাগত পদ্ধতিতে মাছ ধরা নৌযানগুলো ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ টন মাছ আহরণ করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৬১ টনে। অন্যদিকে একই সময়ে শিল্পভিত্তিক ট্রলারের মাধ্যমে মাছ আহরণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৪ টন থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৫১ টনে দাঁড়িয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ আসত সমুদ্র থেকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার আরও কমে ১১ দশমিক ১২ শতাংশে নেমেছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্যবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বর্মণ বলেন, মাছ আহরণের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সামুদ্রিক মাছের মজুতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, শিল্পভিত্তিক ট্রলারগুলো নির্ধারিত গভীর সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরার পরিবর্তে তুলনামূলক অগভীর পানিতে মাছ আহরণ করছে। একই এলাকায় ছোট নৌযান ও বড় ট্রলার মাছ ধরলে মাছ আহরণে প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়। তাই শুধু কী পরিমাণ মাছ আহরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, কোথায় এবং কী পদ্ধতিতে মাছ ধরা হচ্ছে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
পার্থ প্রতিম বর্মণ আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে সমুদ্রে মাছ আহরণ করা হলেও বাংলাদেশে এখনো প্রজাতিভিত্তিক মাছের মজুতের নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। এ জন্য আরও গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন, যাতে কোন প্রজাতির মাছ কী পরিমাণে রয়েছে এবং মজুতের ক্ষতি না করে কতটুকু আহরণ করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা যায়।





