রায়হান হত্যা : এসআই আকবরের ফাঁসি, দুইজনের যাবজ্জীবন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৭:২৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর বহুল আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় শেষে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশীদ। সাত বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান।
ছয় আসামির মধ্যে কারাগারে একজন :
মামলার ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচজন পলাতক। রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।
রায় ঘোষণার সময় সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পর রায় ঘোষণা হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা তাঁর ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, তাঁরা পালিয়ে গেছেন। আসামিরা শাস্তি না পেলে তাঁর ছয় বছরের অপেক্ষা ও কষ্ট বিফলে যাবে।
যেভাবে হত্যা করা হয় রায়হানকে :
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সমালোচনার পাশাপাশি তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে প্রধান আসামি করা হয়।
জামিনে মুক্তির পর পলাতক আকবর :
ঘটনার পর এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে পিবিআই কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে প্রধান আসামি এসআই আকবরকে আটক করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসআই আকবর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তাঁর জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
দীর্ঘ ৬ বছর পর বহুল আলোচিত মামলার রায়ে প্রধান আসামী এসআই আকবরের ফাঁিসর রায়ে জনমনে স্বস্তি থাকলেও আসামীর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রায় কার্যকর প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পলাতক আসামীদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান আদালত প্রাঙ্গনে রায় শুনতে আসা জনসাধারণ।






