সিনহা হত্যা মামলা আপিল বিভাগে, শুনানি ১ ডিসেম্বর
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১৬:০১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলা বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের ধাপ পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দণ্ডিত আসামিরা। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত। গত ১৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত শুনানির এ দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। একইসঙ্গে অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টের ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সিনহার বুকে আঘাত করেন এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্য ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সাধারণ অভিপ্রায়ের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধের ধরন বিবেচনায় বিচারিক আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের মতে, ওই সিদ্ধান্ত যথাযথ ও যুক্তিযুক্ত, তাই সাজা বহাল রাখার রায়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস হত্যা মামলা করেন। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় দেন। ওই রায়ে প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাত আসামি খালাস পান।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। দণ্ডিত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন। একইসঙ্গে খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছয় আসামির সাজা বাড়ানোর আবেদন করেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।
এখন মামলাটির পরবর্তী ধাপ আপিল বিভাগে শুনানি। আগামী ১ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হলে দণ্ডিত আসামিদের আপিলের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাদী ও আসামিপক্ষ।



