মৌলভীবাজারে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতি, গ্রেফতার ৫
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৫৫:২১ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকায় মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), জুমন মিয়া (২৬), নজরুল ইসলাম (২৬), রাহেল মিয়া (২৩) ও সম্রাট মিয়া (২৮)। তারা সবাই মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহিদ মিয়া কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত পিকআপটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা নিজেদের পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহিদ মিয়া (৪২) মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলাটি ২৪ নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর সদর মডেল থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকার মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের কথিত সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দলের অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম, রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়ি, গরু-মহিষসহ নানা ধরনের মালামাল লুট করত। ঘটনার দিন জুমনের নেতৃত্বে আসামিরা তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করে চালক ও মালিককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নেয়। পরে মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে রেখে পরদিন সিলেটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





