ইতালিতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৮:৫৫ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : দালালের মাধ্যমে নয়, প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করলে দেশটির প্রচলিত অভিবাসন কোটা বা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র বাইরেও কাজের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীকে কোনও খরচ বহন করতে হবে না। বছরের যেকোনও সময় আবেদন করা যাবে, এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও ‘ক্লিক ডে’ নেই। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইতালিতে বর্তমানে ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ৮০ হাজারের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। সেমিনারে ইতালির সরকারি কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি। তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। এসব কর্মী বিভিন্ন দেশের মধ্যে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী নেওয়া হবে। অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নিতে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের জন্যও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে।
তবে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে ইতালির অভিবাসন আইনের ‘আর্টিকেল ২৩’। এই ধারার আওতায় ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং প্রজেক্ট সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা ডেকরেতো ফ্লাসির কোটা ছাড়াই বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই প্রশিক্ষণে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক। এগুলো হলো প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালি সম্পর্কে মৌলিক নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের খাতের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে থেকেই সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য কর্মীকে কোনও অর্থ ব্যয় করতে হবে না।
অনুষ্ঠানে ফরম্যাটের প্রতিনিধি আন্তোনিও মিলো আর্টিকেল ২৩-এর পাঁচটি সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় কোটা ছাড়াই ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে, শুরু থেকেই ইতালি সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ইতালীয় ভাষা ও কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ইতালিতে যেতে পারবেন। আর যারা শেষ পর্যন্ত ইতালি যাবেন না, তারাও অর্জিত দক্ষতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারবেন। দূতাবাস জানায়, এ-সংক্রান্ত গাইডলাইন গৃহীত হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ জুলাই।
সেমিনারে ইতালি যাওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, ইতালির ভিসার সরকারি ফি ৫০ থেকে ১১৬ ইউরো। এর সঙ্গে ভিএফএস ফি ৩৮ ইউরো যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ ইউরো খরচ হয়। অথচ একই ভিসার জন্য দালালরা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নিচ্ছে। এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।






